• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 30 August, 2026

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে, বদলাল সন্তানের ‘বাবার’ পরিচয়! মানবিক নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

বিবাহবিচ্ছেদের পর মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে। নতুন সংসারে শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবেই গ্রহণ করেছেন সৎবাবা। জন্মদাতা বাবারও নেই কোনও আপত্তি।

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে, বদলাল সন্তানের ‘বাবার’ পরিচয়! মানবিক নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

বিবাহবিচ্ছেদের পর মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে। নতুন সংসারে শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবেই গ্রহণ করেছেন সৎবাবা। জন্মদাতা বাবারও নেই কোনও আপত্তি। কিন্তু সরকারি নথিতে রয়ে গিয়েছিল জন্মদাতা বাবার নাম। স্কুলে ভর্তি-সহ নানা ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছিল সমস্যা। শেষ পর্যন্ত সেই জট খুলে দিল কলকাতা হাই কোর্ট।

পূর্ব বর্ধমান পুরসভা এলাকার একটি মামলায় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী নির্দেশ দিয়েছেন, শিশুটির বর্তমান পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন করে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করতে হবে।

মামলাকারী ২০১২ সালের এপ্রিলে শুভঙ্কর কর্মকারকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০২২ সালের মার্চে রাজেশ ঘোষকে বিয়ে করেন ওই মহিলা। শিশুটি মা ও তাঁর দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গেই থাকত। দ্বিতীয় স্বামীও তাকে নিজের সন্তান হিসেবেই গ্রহণ করেন।

কিন্তু জন্ম শংসাপত্রে জন্মদাতা বাবার নাম থাকায় স্কুলে ভর্তি-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সমস্যা হচ্ছিল। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক বার জন্ম শংসাপত্রে বাবা-মায়ের নাম নথিভুক্ত হয়ে গেলে তা সহজে বদলানো যায় না। নির্দিষ্ট আইনি বিধান না থাকায় দ্বিতীয় স্বামীর নাম যুক্ত করতেও রাজি হয়নি পুরসভা।

এরপর হাই কোর্টে মামলা করেন শিশুটির মা। শুনানিতে জন্মদাতা বাবাও আদালতে হাজির হয়ে জানান, সন্তানের নথিতে এই পরিবর্তনে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।

সব দিক বিবেচনা করে আদালত জানায়, পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘হাইপার টেকনিক্যাল’ দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি নথিতেও সংশোধনের সুযোগ থাকা উচিত।

১৯৬৯ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের ১৫ নম্বর ধারা এবং সুপ্রিম কোর্টের ‘আকেলা ললিতা’ মামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে শুনানিতে। আদালতের বক্তব্য, সব পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র জৈবিক বাবার নামই নথিতে রাখা অপরিহার্য নয়।

তবে শিশুর ভবিষ্যৎ ইচ্ছাকেও গুরুত্ব দিয়েছে আদালত। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। নতুন জন্ম শংসাপত্রে আগের শংসাপত্রের ক্রমিক নম্বর ও ইস্যুর তারিখও উল্লেখ করতে হবে। রক্তের সম্পর্কের পাশাপাশি শিশুর বর্তমান পরিবার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ—এই বার্তাই দিল কলকাতা হাই কোর্ট।