রাত পোহালেই রাখিবন্ধন উৎসব। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। বাজারেও রাখি কেনার জন্য দোকানে দোকানে মানুষের ভিড়। তবে এই রাখিতেই বাংলার হস্ততাঁত শিল্পকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী অভিনব বসাক। তিনি প্লাস্টিক বা অন্যকিছু দিয়ে নয়, শাড়ির বুনন কেটে তৈরি করেছেন রাখি।
নদিয়ার ফুলিয়ার তরুণ তুর্কী তথা ২০২৫ সালের জাতীয় হস্ততাঁত পুরস্কারপ্রাপ্ত মাস্টার উইভার শ্রী অভিনব বসাক এই রাখি বানিয়েছেন। সম্পূর্ণ নিজস্ব গবেষণায় এবং ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল ও জামদানি বুননশৈলীর মেলবন্ধনে তিনি তৈরি করেছেন ভারতের প্রথম পরিধানযোগ্য রাখি-সংবলিত হেরিটেজ শাড়ি। প্রথাগতভাবে বাজারে যে সমস্ত রাখি পাওয়া যায়, তা কৃত্রিম প্লাস্টিক বা কেমিক্যালে তৈরি। কিন্তু অভিনব বসাকের এই ভাবনায় শাড়ির আঁচল বা জমিনের বুনন প্রক্রিয়ার সময়ই অতিরিক্ত টানা ও বানা সুতো ইন্টারলকিং পদ্ধতিতে ফেলে কাপড়ের সঙ্গে ইন-বিল্ট করে এই রাখিগুলো বোনা হচ্ছে।
শাড়ির মূল গাঠনিক সুতো অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত নিখুঁত সূক্ষ্ম কাটিং প্রযুক্তিতে এই মীনাকারি রাখিগুলো শাড়ি থেকে কেটে সম্পূর্ণ আলাদা করা যায়। আলাদা করার পর রাখিটি অনায়াসে হাতে বাঁধা যাচ্ছে। অথচ মূল শাড়ির কাপড়ের বা ফিনিশিংয়ের বিন্দুমাত্র কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। এই পরিবেশবান্ধব, জিরো-ওয়েস্ট এবং শতভাগ খাদি ও মসলিন সুতোর রাখি-বুনন ভারতের সমকালীন ফ্যাশন বাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছে তাঁতি মহল।
ইতিমধ্যে এই রাখি দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ বস্ত্র দপ্তরেও পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাখির রূপকার অভিনব বসাক। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মনির্ভর ভারতের কথাকে মাথায় রেখেই বাংলার তাতে এই অভিনব কাজ বলে জানান শিল্পী অভিনব বসাক। তাঁত শিল্পীর কথায়, ‘আগামী দিনে এই কাজের পরিধি আরও বাড়িয়ে এলাকার বহু মহিলা ও পুরুষ তাঁত শিল্পীদের একসঙ্গে যুক্ত করে টাঙ্গাইল ও জামদানির রাখি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে এই শিল্প ও শিল্পীরা নতুন আয়ের মুখ দেখতে পারেন।’
ইতিমধ্যেই এই শাড়ি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের ডেভেলপমেন্ট কমিশনার হ্যান্ডলুমে কিছু ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। আবার কিছু সরাসরি হাতেও পাঠানো হয়েছে।




