• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 26 August, 2026

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অভিযোগ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোপে ৪ ভারতীয় সংস্থা ও ৩ নাগরিক  

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ও তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক নেটওয়ার্কের উপর চাপ আরও বাড়ানো হবে। এই পদক্ষেপে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সংস্থার লেনদেনে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অভিযোগ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোপে ৪ ভারতীয় সংস্থা ও ৩ নাগরিক  

Image: ANI

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগে ৪টি ভারতীয় সংস্থা এবং ৩ ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ইরানের অর্থনীতির উপর চাপ বাড়াতে শুরু করা হয়েছে ‘অপারেশন ইকনমিক আউটকাস্ট’। তার আওতায় এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি। ইরানের তেল, পেট্রোলিয়াম ও অন্যান্য বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে অর্থের জোগান বজায় রাখতে সাহায্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগে বিভিন্ন দেশের সংস্থা ও ব্যক্তিকে নিশানা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের তালিকায় থাকা ভারতীয় সংস্থাগুলি হল সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড, প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং পোর্টিজ পার্টনার্স এলএলপি। এর মধ্যে সদাশিব ওভারসিজের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রায় ৬৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানের পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ রয়েছে। পিপি সফটটেক এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা, এই দুই সংস্থার ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

পোর্টিজ পার্টনার্স একটি কাস্টমস ব্রোকার সংস্থা। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ইরান থেকে ভারতে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আনার ক্ষেত্রে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সংস্থাটির দুই অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি এবং ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন পিপি সফটটেকের ডিরেক্টর প্রশান্ত গর্গও।

মার্কিন ট্রেজারির বক্তব্য, ইরানের তেল বিক্রি এবং অন্যান্য আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশটির রাজস্বের পথ বন্ধ করাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। ‘অপারেশন ইকনমিক আউটকাস্ট’-এর মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা তৃতীয় দেশের সংস্থা ও ব্যক্তিদের উপরও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকেও বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট এই অভিযানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইরানের অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’গুলি ছিন্ন করাই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ও তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক নেটওয়ার্কের উপর চাপ আরও বাড়ানো হবে। এই পদক্ষেপে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সংস্থার লেনদেনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সংস্থাগুলির আমেরিকায় থাকা সম্পদ বা মার্কিনীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ সাধারণত ‘ব্লক’ করা হয় এবং মার্কিন নাগরিক ও সংস্থার সঙ্গে তাদের লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কঠোর পদক্ষেপের জেরে বিশ্বজুড়ে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

তবে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না তা নজরে থাকছে দিল্লিরও। কারণ ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সময়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের এই নতুন কড়া পদক্ষেপ ভারতের জন্য কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক, দুই দিক থেকেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।