পশ্চিমবঙ্গ সরকার পর্যটন ক্ষেত্রে অভিনবত্বের সঙ্গে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে। রাজ্যে এক হাজার মানুষজনকে নিয়ে চলতে পারবে এমন একটি যোগ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকী কালিম্পং এবং দার্জিলিংয়ের মধ্যে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই রোপওয়ে তৈরি হয়ে গেলে দুটি বিষয় একসঙ্গে ঘটবে। এক, পাহাড়ের দুই শহরকে একসঙ্গে বাঁধবে। দুই, বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করবে। সড়কপথে যানজট কমাতে এবং নতুন পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হবে এই রোপওয়েকে। সুতরাং দার্জিলিং থেকে কালিম্পং যাওয়ার আর কোনও হ্যাপা থাকবে না।
এই উদ্যোগের পিছনে বড় ভাবনা আছে। সেটি হলো-বর্ষায় অনেক সময় পাহাড়ে ধস নেমে রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। আবার পর্যটকদের ভিড়ে পাহাড়ি পথে যানজট তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক কাজে আসবে রোপওয়ে। পর্যটকদের কাছে তা বেশ আকর্ষণেরও বটে। রোপওয়েতে আকাশের বুক চিড়ে দুই পাহাড়ি জেলা শহরের মধ্যে অবাধ যাতায়াত করা সম্ভব হবে। তাই দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের মধ্যে রোপওয়ে তৈরির পরিকল্পনা করে ফেলেছে পর্যটন দপ্তর। সড়কপথে এই দুই শহরের দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটার হলেও রোপওয়েতে মাত্র ২০ কিমি পথ অতিক্রম করতে হবে আকাশপথে।
পর্যটন দপ্তরকে উত্তরবঙ্গে যোগ কেন্দ্রের উপযুক্ত স্থান ঠিক করতে বলা হয়েছে। জায়গা ঠিক হয়ে গেলেই প্রকল্পের কাজ এগোবে। পাহাড়ি এলাকায় এই কেন্দ্র যোগ অনুশীলন এবং সুস্থ জীবনযাত্রার প্রচার বৃদ্ধি করবে। পর্যটকরা এখানে এসে যোগ শিখতে এবং অনুশীলন করতে পারবেন। পাশাপাশি রোপওয়ে প্রকল্প চালু হলে কালিম্পং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত আকাশপথে যাতায়াত করা যাবে। পাহাড়ি রাস্তায় যানজট এবং পথ দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং পর্যটন দপ্তরের অফিসারদের নিয়ে নবান্নে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময়ের বৈঠকে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর্যটন ভাবনার উপর ভিত্তি করেই যে এই পদক্ষেপ সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং থেকে কালিম্পং সড়কপথে গাড়ি ভাড়া পড়ে কম করে ২০০০ টাকা। পর্যটন মরশুমে তা মাঝ্মধ্যে ৪০০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। তার উপর আছে পাহাড়ি পথের দুর্ভোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যা। রোপওয়ে এসব কিছুর বাধা দূর করে দিতে পারবে অনায়াসেই।
তাছাড়া এই রোপওয়ে তৈরি হয়ে গেলে পর্যটকরা সহজে এবং আরামে দুই গন্তব্যের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগও বাড়বে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে এই উদ্যোগ পর্যটকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। রাজ্যের একাধিক প্রান্তের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে আরও ১২টি নতুন রোপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে। এই বিষয়ে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য পর্যটন দপ্তরের নতুন ‘লোগো’র উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সহায়তা করবেন সুব্রত গুপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘রাজ্যের পর্যটন সফল করতে জমির বন্দোবস্ত বা অর্থের অভাব হবে না। পর্যটন দপ্তর পরিকল্পনা রূপায়ণে সরকারের সব দপ্তরের পূর্ণ সহযোগিতা পাবে।’




