ডানকুনিতে লাক্স কোজির নতুন কারখানা নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের তোলা অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে শিল্পপতির দাবি, প্রকল্পটি কোনওভাবেই ওয়ারহাউস প্রোজেক্ট নয়, এটি সম্পূর্ণ ম্যানুফাকচারিং প্রোজেক্ট। কারখানা তৈরির জন্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুমোদন নিয়েই ১১ জুলাই ভূমিপুজো করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অশোক টোডির কথায়, “পাঁচ দশক ধরে বাংলায় ব্যবসা করছি। নতুন সরকার এসেছে। এই সরকারকে নিয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। বাংলায় খুব ভালো কাজ হচ্ছে। রাজ্যের এই উন্নয়নের সঙ্গে আমরা আছি।”
কুণাল ঘোষের অভিযোগ প্রসঙ্গে টোডির দাবি, লাক্স কোজির নতুন প্রকল্পের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা তৈরি রয়েছে। শুধুমাত্র কারখানার জন্যই ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। ওয়ারহাউস এই প্রকল্পের মধ্যে ধরা হয়নি।”
১১ জুলাইয়ের ভূমিপুজো নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন শিল্পপতি। তাঁর দাবি, সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুমতি নিয়েই ওই অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “অনুমোদন ছাড়া আমরা কোনও কাজ করি না।”
ডানকুনির জমি নিয়ে ওয়ারহাউসএর অনুমতির প্রসঙ্গে অশোক টোডি জানান, তাঁর ব্যক্তিগত নামে কয়েকটি ওয়ারহাউস রয়েছে। ভবিষ্যতে সেগুলি কারখানার নামের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তবে নতুন প্রকল্পটি ওয়ারহাউস নয় বলেই দাবি তাঁর।
অশোক টোডির কথায়, “এটা ওয়ারহাউস প্রোজেক্ট নয়. এটি ম্যানুফাকচারিং প্রোজেক্ট.” তাঁর দাবি, লজিস্টিকস সংক্রান্ত কোনও বিভ্রান্তি থেকেই হয়তো ওয়ারহাউস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লাক্স কোজির নতুন কারখানাকে এশিয়ার সেরা পাঁচটি কারখানার মধ্যে অন্যতম করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তাঁর ঘোষণা, ৩০ মাসের মধ্যে নতুন কারখানার উৎপাদন শুরু করে দেওয়া হবে।
কুণাল ঘোষ যে নথি দেখিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, তা নিয়েও পাল্টা আক্রমণ করেছেন অশোক টোডি। তাঁর দাবি, প্রায় ১৫ বছর আগের নথি দেখিয়ে বর্তমান প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কুণাল ঘোষের সাংবাদিক বৈঠকের বক্তব্যকে “মিথ্যা” বলেও দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনায় কুণাল ঘোষকে ডিফেমেশন নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও জানান শিল্পপতি অশোক টোডি। শিল্প সচিব বন্দনা যাদব জানিয়েছেন, ১১ একর জমি কারখানার জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে এবং তিন একর জমি ওয়ার হাউজের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।




