• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 21 August, 2026

নজিরবিহীন নির্দেশ হাইকোর্টের! পঠন-পাঠন বন্ধ রেখে নয়, বিকল্প শিক্ষক রেখেই হবে জনগণনার কাজ

একদিকে স্কুলের পঠন-পাঠন, অন্যদিকে জনগণনার দায়িত্ব, দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি।

নজিরবিহীন নির্দেশ হাইকোর্টের! পঠন-পাঠন বন্ধ রেখে নয়, বিকল্প শিক্ষক রেখেই হবে জনগণনার কাজ

Image: AI নির্মিত

অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে সাময়িক স্বস্তি পেলেন রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সর্বোপরি স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, স্কুলের পঠন-পাঠন কোনওভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। তবে প্রয়োজন হলে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিযুক্ত করা যাবে। সে বিষয়ে একাধিক শর্ত আরোপ করে এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার শিক্ষক সংগঠনগুলির দায়ের করা মামলায় এই নির্দেশ দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।

আদালতের নির্দেশ, কোনও শিক্ষককে জনগণনার কাজে নিয়োগ করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানাতে হবে সেনসাস ডিরেক্টরের তরফে। এরপর প্রধান শিক্ষককে নিশ্চিত করতে হবে, ওই শিক্ষক জনগণনার কাজে গেলে স্কুলের পঠন-পাঠন যেন কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রয়োজনে তাঁর দায়িত্ব অন্য কোনও শিক্ষকের হাতে তুলে দিতে হবে।

শুধু তাই নয়, জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষককে আগে থেকেই জানাতে হবে, কোন সময় থেকে কোন সময় পর্যন্ত তাঁকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণনার কাজে যে সময় তিনি নিয়োজিত থাকবেন, সেই সময়কে ‘অন ডিউটি’ হিসাবেই গণ্য করতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সেনসাস কর্তৃপক্ষ এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও শিক্ষককে একবার এই দায়িত্ব দিয়ে দিলে তিনি তা পালনে অস্বীকার করতে পারবেন না। তবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্কুলের স্বাভাবিক শিক্ষাদান যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে গত ১৯ আগস্ট মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, জনগণনার কাজ শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তাঁরা চাইলে স্কুলে পড়ানোর দায়িত্ব পালন করবেন অথবা জনগণনার কাজে যুক্ত হবেন। এমনকী আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ‘অনুরোধ’ করা হয়েছে বলেও জানায় রাজ্য।

কিন্তু রাজ্যের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তাঁর প্রশ্ন ছিল, জনগণনা কর্তৃপক্ষ যদি ইতিমধ্যেই কোনও শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে কী হবে? রাজ্য ও জনগণনা কর্তৃপক্ষ ঠিক কী করতে চাইছে, তা নিয়েও আদালত অস্পষ্টতার কথা জানিয়েছিল।

শিক্ষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ফিরদৌস শামীম ও আইনজীবী গোপা বিশ্বাস আদালতে দাবি করেন, তাঁদের যেভাবে জনগণনার কাজে যুক্ত করা হচ্ছে, তার কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। ফলে একদিকে স্কুলের পঠন-পাঠন, অন্যদিকে জনগণনার দায়িত্ব, দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি।

আরও পড়ুন: ‘ফের যদি যাদবপুরে দেশবিরোধী স্লোগান ওঠে, তাহলে…’, সার্জিকাল স্ট্রাইক নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলীপের

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত স্পষ্ট করে জানাল, জনগণনার কাজ চলবে। কিন্তু তার খেসারত দিয়ে স্কুলের পঠন-পাঠন বন্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষককে দায়িত্ব দিলে তাঁর বিকল্প ব্যবস্থাও করতে হবে। সেই সঙ্গে দায়িত্বের সময়সীমা জানিয়ে তাঁকে ‘অন ডিউটি’ হিসাবেও গণ্য করতে হবে।