• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

জেলাশাসকের হাতেই এবার নাগরিকত্বের চাবিকাঠি, বাংলা-সহ সীমান্ত লাগোয়া ৬ রাজ্যে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ছয় রাজ্যে নাগরিকত্ব মঞ্জুরের ক্ষমতা এখন জেলাশাসকদের হাতে। কী বলছে নতুন নিয়ম, জানুন বিশদে।

জেলাশাসকের হাতেই এবার নাগরিকত্বের চাবিকাঠি, বাংলা-সহ সীমান্ত লাগোয়া ৬ রাজ্যে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

6 Indian border states can now give citizenship to foreigners (AI Imagined)

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নতুন করে ঘোষণা করল নাগরিকত্ব আইনের সংশোধিত নিয়মকানুন। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ছয়টি সীমান্তবর্তী রাজ্য এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিদেশি আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা সরাসরি চলে গেল জেলাশাসকদের (District Magistrate) হাতে। বুধবার জারি হওয়া এই বিজ্ঞপ্তির পরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

কী বদলাল

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকত্ব (তৃতীয় সংশোধনী) বিধি ২০২৬ (Citizenship Third Amendment Rules 2026) জারি করেছে। এত দিন গুজরাত, রাজস্থান, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, আসম এবং ত্রিপুরার (উপজাতি এলাকা বাদে) মতো রাজ্যে এবং জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই করত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি (Empowered Committee) এবং মনোনীত আধিকারিকেরা (Designated Officer)। এই ব্যবস্থায় জনগণনা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং ডাক বিভাগের মতো একাধিক কেন্দ্রীয় দপ্তরের প্রতিনিধি থাকতেন। এখন সেই গোটা প্রক্রিয়া একজন ব্যক্তির উপরেই ন্যস্ত হল। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকই এখন থেকে আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালানোর ক্ষমতা পেলেন। বিধিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে জেলাশাসক নিজে সন্তুষ্ট হলে তবেই কোনও আবেদনকারীকে যোগ্য বলে বিবেচনা করে নাগরিকত্ব মঞ্জুর করতে পারবেন। আবেদনকারীকে সশরীরে হাজির হয়ে শপথবাক্য পাঠ করতে হবে, তা না হলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।

নাগরিকত্ব আইন ও বাংলা

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (Citizenship Amendment Act বা CAA) নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালে আইন পাশ হওয়ার পরে রাজ্য বিধানসভায় এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদিয়া-সহ জেলায় জেলায় ছড়িয়ে থাকা মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua community) বিপুল ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন বহু দিনের। বাংলাদেশ থেকে আসা নমঃশূদ্র উদ্বাস্তুদের একটা বড় অংশ মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। ২০২৪ সালের মার্চে যখন সিএএ বিধি প্রথম জারি হয়, তখন ঠাকুরনগরে উৎসবের চেহারা নিয়েছিল।

রাজনীতির অঙ্ক কী বলছে

জেলাশাসকদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সিদ্ধান্তকে নিছক প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বহু-স্তরীয় কমিটির বদলে একক আধিকারিকের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেওয়া মানে প্রক্রিয়া দ্রুত করার বার্তা। জেলা প্রশাসন সরাসরি রাজ্য সরকারের অধীনে কাজ করে বলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নও এবার নতুন মাত্রা পেতে পারে।

কারা আবেদন করতে পারবেন

সিএএ অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ, যাঁরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা এই আইনের আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। শর্ত অনুযায়ী ভারতে ৬ বছর বসবাসের প্রমাণ দিতে হয়, যেখানে সাধারণ ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিকীকরণের (Naturalisation) মেয়াদ ১২ বছর।

কী পরিবর্তন হচ্ছে বাস্তবে

আবেদন প্রক্রিয়া এখনও অনলাইনেই হবে। তবে যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের গোটা দায়িত্ব এখন জেলা স্তরে নেমে এল। এতে প্রক্রিয়া দ্রুত হবে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, জেলাশাসকের একক এক্তিয়ারে সিদ্ধান্ত হলে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আগের ব্যবস্থায় একাধিক দপ্তরের প্রতিনিধি থাকায় একটা পারস্পরিক ভুল যাচাইয়ের (Cross-checking) সুযোগ ছিল, নতুন কাঠামোয় সেই ভারসাম্য কতটা বজায় থাকবে, তা সময়ই বলবে।