উৎসবের মরশুমের আগে বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় ক্রেতাদের মজুতের উপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করল কেন্দ্র। মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলি এবার থেকে ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবে না। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন দপ্তরের ১৯ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে মজুতের সময়সীমা ৩০ দিন করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও চিনির দাম কমেনি। গত এক মাসে দেশে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে মূলত বড় প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতারা। বিস্কুট ও মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থা, কনফেকশনারি, সফ্ট ড্রিঙ্ক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা-সহ যারা মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহার করে। গত এক বছরের গড় মাসিক ব্যবহার ধরে এই সীমা নির্ধারণ করা হবে। তবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলি এই নিয়মের বাইরে থাকবে।
উৎসবের সময় চিনির চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো, দশেরা ও দীপাবলিকে সামনে রেখে মিষ্টি, বিস্কুট ও নানা খাদ্যপণ্য তৈরির সংস্থাগুলি আগে থেকেই বেশি চিনি কিনে রাখে। ফলে বাজারে সরবরাহের উপর চাপ পড়ে এবং দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই পরিস্থিতি আটকাতেই মজুতের সময়সীমা অর্ধেক করে দিল কেন্দ্র।
পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সীমিত শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির মতো বিকল্পও কেন্দ্র বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। সামনে উৎসবের ৩ মাসে নতুন নিয়মে বাজারে চিনির জোগান বাড়ে কি না, আর তার ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম ফেরে কি না, এখন সেটাই দেখার।




