• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 20 August, 2026

VIRAL VIDEO: হোমওয়ার্ক করোনি কেন? টিচারের বকুনি, চড়-থাপ্পড়ে ক্লাসেই চিরঘুমে লোয়ার কেজি-র প্রণয়

বিশাখাপত্তনমের একটি স্কুলে হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষিকার বকুনি খেয়ে আতঙ্কে হৃদরোগে মৃত্যু হল ছয় বছরের এলকেজি পড়ুয়ার। সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে চাঞ্চল্য।

VIRAL VIDEO: হোমওয়ার্ক করোনি কেন? টিচারের বকুনি, চড়-থাপ্পড়ে ক্লাসেই চিরঘুমে লোয়ার কেজি-র প্রণয়

LKG Student Dies Of Heart Attack (CCTV)

স্কুলের ক্লাসরুম মানেই তো এক্কেবারে ছোট্ট শিশুদের কাছে খেলাধুলো আর হইহুল্লোড়ের জায়গা। কিন্তু বিশাখাপত্তনমের (Visakhapatnam) একটি বেসরকারি স্কুলে সেই ক্লাসরুমই হয়ে উঠল এক দুঃস্বপ্নের সাক্ষী। লোয়ার কেজিতে পড়া মাত্র ছয় বছরের একটি ছেলে, হোমওয়ার্ক শেষ না করার জন্য শিক্ষিকার বকুনি আর মারের জেরে এমন ভয় পেয়ে যায় যে মুহূর্তের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, ছেলেটি আর নেই।

কী ঘটেছিল ক্লাসরুমে

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) বিশাখাপত্তনম শহরের ওয়ান টাউন এলাকার লিটল গার্ডেন স্কুলে (Little Garden School), বৃহস্পতিবার। মৃত শিশুটির নাম প্রণয় তেজ। স্কুলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ক্লাসটিচারের সামনে দাঁড়িয়ে ভয়ে কাঁপছে ছোট্ট প্রণয়। শিক্ষিকা তার ইউনিফর্ম ঠিক করে দেওয়ার সময় শিশুটি কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। তখনই শিক্ষিকা তাকে একটি চড় মারেন। চড় খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটি শিক্ষিকার গায়ের উপর ঢলে পড়ে। ক্লাসের বাকি পড়ুয়ারা হতভম্ব হয়ে গোটা ঘটনা দেখতে থাকে।

তড়িঘড়ি হাসপাতালে

শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন, প্রণয় মৃত। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তার। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজ

স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পাওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রণয়ের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন। স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষিকার কড়া শাস্তির (corporal punishment) জেরেই প্রাণ হারিয়েছে তাঁদের সন্তান। অভিযুক্ত শিক্ষিকা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ, দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন পরিজনেরা।

দায়ের মামলা

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্তও। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। স্কুলের পরিচালন সমিতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই ঘটনা ফের একবার সামনে নিয়ে এল স্কুলে শিশুদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রশ্নকে। ছোট্ট ছোট্ট ভুলের জন্য শিশুদের উপর যে চাপ তৈরি করা হয়, তা কতটা মারাত্মক হতে পারে, এই ঘটনা তারই এক করুণ উদাহরণ হয়ে থাকল।