তিনি রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। আর তাঁর নামেই রসিদ ছাপিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছিল তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামার বিরুদ্ধে। তারপর কেটে গিয়েছে তিন মাস। তারই মধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বারবার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে, দল কোনওরকম তোলাবাজি বরদাস্ত করবে না। যাঁরা এসব করছেন দল তাঁদের উপর নজর রাখছে। ২০-২৫ জন বিধায়ক দল থেকে চলে গেলে কোনও ক্ষতি হবে না সেটাও বলা হয়েছে। এই আবহে খোদ খড়গপুরে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের নামে রসিদ ছাপিয়ে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠল।
এই বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিছুই জানেন না। এভাবে কারা এমন করছে? সেটা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় যথেষ্ট বিতর্ক দেখা দিয়েছে। খড়গপুর শহরে হচ্ছে ‘ভারত মাতা পূজন’। আর তাই রসিদ ছাপিয়ে ২০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই রসিদে আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম লেখা আছে খড়গপুর সদরের বিধায়ক তথা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের। ওই রসিদ আবার সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রেল শহরে। বিজেপির খড়গপুর শহরের উত্তর মণ্ডল নেতৃত্বের পক্ষ থেকেই এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই রসিদে আবার পুজোর উদ্যোক্তা হিসেবে লেখা রয়েছে ‘ভারত মাতা জনসেবা কার্যালয়’। তবে বিষয়টি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করেছে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
ভারত মাতার পুজো করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটবে তা বিজেপি নেতারা ভাবতেই পারছেন না। এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মানুষজনও বিরক্ত। তাঁদের মধ্যে কেউ এই রসিদ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে উত্তর মণ্ডল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি সমিত মণ্ডল। এই ঘটনাটি পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সমিতবাবু। যে কোনও তোলাবাজি, অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। দলেরই কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে রাজ্যের মন্ত্রীর নাম জড়িয়ে চাঁদার রসিদ সামনে আসতেই অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি জেলা নেতৃত্ব।
তাছাড়া খড়গপুর শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধোবিঘাটে গত তিনদিন ধরে চলছে ভারত মাতা পূজন। বসেছে মেলাও। তার জন্যই চাঁদার রসিদ ছাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘দৈনিক স্টেটসম্যান বাংলা ডিজিটাল’)। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি সমিত মণ্ডল বলেন, ‘আমরামণ্ডল নেতৃত্বকে সতর্ক করেছি। ভারত মাতা পূজন করতেই পারেন। চাঁদা তুলে পুজো করছেন সেটাও ঠিক আছে। কিন্তু চাঁদার রসিদে মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক হয়নি। না জেনেবুঝেই করেছেন। আমরা মন্ত্রীকেও জানিয়েছি বিষয়টি।’




