ছাদে ফুল তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি গৃহবধূর। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন দেওর ও বৌদি। পরে তিনজনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দেওর মনোজ মিত্র ও বৌদি আদরী মিত্রের মৃত্যু হয়। বর্তমানে সাথী মিত্র আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার সেহারা গ্রামে মঙ্গলবার সকালের এই দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মৃতদের নাম আদরী মিত্র (৩৪) ও তাঁর দেওর মনোজ মিত্র (৫২)। আহত মহিলা মৃত আদরী মিত্রের জা সাথী মিত্র। মনোজ ও সাথী সম্পর্কে স্বামী ও স্ত্রী। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির দোতলার ছাদে নির্মাণকাজ চলছিল। সেখানে বিদ্যুতের লাইনের কাজও চলছিল। গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির পর সেখানে একটি ইলেকট্রিকের লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ চলে এসেছিল।
জানা গিয়েছে, বিদ্যুৎবাহী একটি খোলা তার ছাদে থাকা জামাকাপড় মেলার তারে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে মনোজের স্ত্রী সাথী মিত্র ছাদে ফুল তুলতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে তিনি কোনওভাবে জামাকাপড় মেলা তারের সংস্পর্শে চলে আসেন। তারটি সাথী ধরতেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ছোট জা আদরী সাথীকে ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে তুলতে যান। সেই সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। আদরী ও সাথীকে ছাদে পড়ে থাকতে দেখে মনোজ তাঁদেরকে তুলতে যান। তখন তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই সুখবর, বেতন বাড়ল বনকর্মীদের, ভাতা বৃদ্ধি বন সহায়কদেরও
স্থানীয় সূত্রের খবর, পরে পরিবারের লোকেরা এসে তিনজনকে উদ্ধার করে। তিনজনকেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মনোজ ও আদরীকে মৃত ঘোষণা করেন। দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করছে। তবে সেখানে ইলেকট্রিকের তারে কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।




