• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 18 August, 2026

২০১১ থেকে ভোটার কার্ডে নেওয়া সব জাতিগত শংসাপত্রে পুনঃযাচাই, হাইকোর্টে বড় ধাক্কা রাজ্যের

আদালতের পর্যবেক্ষণ, জাতিগত শংসাপত্র বাতিল বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আইনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। নতুন কোনও ভিত্তিতে সেই প্রক্রিয়াকে এড়ানো যায় না।

২০১১ থেকে ভোটার কার্ডে নেওয়া সব জাতিগত শংসাপত্রে পুনঃযাচাই, হাইকোর্টে বড় ধাক্কা রাজ্যের

File Photo

এসআইআর (SIR)-এর আবহে জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে রাজ্যের নির্দেশ ঘিরে বড় প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টে। ২০১১ সাল থেকে ভোটার কার্ডের ভিত্তিতে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্রগুলি পুনঃযাচাই করতে হবে। মঙ্গলবার আদালতে এমনটাই জানালেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল। তবে প্যান কার্ড বা অন্য নথির ভিত্তিতে নেওয়া শংসাপত্রের ক্ষেত্রে এই পুনঃযাচাই প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

মামলাটি দায়ের করেছে সিপিএম। রাজ্যের ‘গণপুনঃযাচাই’ সংক্রান্ত নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। মামলাকারীর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল, অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তদন্ত বা পুনঃযাচাই হতেই পারে। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে সমস্ত শংসাপত্র একসঙ্গে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া যায় না। তাঁর বক্তব্য, এই নির্দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, এসআইআরে কারও নাম বাদ পড়া কি জাতিগত শংসাপত্র পুনঃযাচাইয়ের আইনসম্মত ভিত্তি হতে পারে? অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, এসআইআরে নাম বাদ গেলেই যে শংসাপত্র বাতিল হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, জাতিগত শংসাপত্র বাতিল বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আইনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। নতুন কোনও ভিত্তিতে সেই প্রক্রিয়াকে এড়ানো যায় না।

আদালত আরও জানায়, ২০১১ সাল থেকে শংসাপত্রগুলি যাচাই করা হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। পুরো নির্দেশিকা স্থগিত হলে প্রকৃত ভুয়ো শংসাপত্রের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে, এই যুক্তিও উঠে আসে।

আরও পড়ুন: সাংসদ-বিধায়ক-সহ ১৪ জন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মামলা, হলফনামা শীর্ষ আদালতে  

শেষে আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন সাব-ডিভিশনাল অফিসারদের বৈঠকের ভিত্তিতে ২০১১ সাল থেকে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্র পুনঃযাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। অর্থাৎ আধিকারিকদের উপর উপরমহলের নির্দেশ কার্যকর করার চাপ তৈরি হয়েছে। শংসাপত্র বাতিল বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে নতুন ভিত্তি যুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মেমো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরুপ বন্দোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।