বিহারের লিখসরাইয়ের অশোকধাম শিবমন্দিরের পর এবার মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির। আজ শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। আর এর জন্য বিভিন্ন শিবমন্দিরে হাজারো পুণ্যার্থীরা ভিড় করছেন। সোমবার উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির চত্বরে নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে অন্তত ১৩ জন পুণ্যার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গিয়েছে, ১৩ জন অসুস্থ পুণ্যার্থীদের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সকলকেই বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নাগ পঞ্চমীর দিন বছরে মাত্র একবার পুণ্যার্থীদের জন্য খোলা হয় নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দির। চলতি বছর নাগ পঞ্চমীর সঙ্গে শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবারও একইদিনে পড়ায় মন্দিরে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়।
VIDEO | Ujjain, Madhya Pradesh: Heavy rush of devotees at the Shri Mahakaleshwar Jyotirlinga Temple to offer prayers on the occasion of Shravan Somwar and Nag Panchami 2026.
(Full video available on PTI Videos – https://t.co/d8jp61yd2p) pic.twitter.com/aBy0msu81C
— Press Trust of India (@PTI_News) August 17, 2026
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, হরসিদ্ধি মন্দিরের বিপরীতে ব্যারিকেড দিয়ে একটি এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত ভিড় হয়। এর মধ্যে ব্যারিকেডের ভিতরে থাকা একটি ট্রান্সফরমারের কাছে বিদ্যুৎ লিক হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
#WATCH | Madhya Pradesh: Injuries reported after a stampede-like situation among the devotees at Mahakaleshwar Nath Chandreshwar Mandir in Ujjain.
Meenu, mother of a man admitted to hospital says, “This occurred at Harsiddhi Chauraha. He came under a barricade when he was going… pic.twitter.com/cNLuRxWXrO
— ANI (@ANI) August 17, 2026
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত একজন পুণ্যার্থী সাগর জানান, মহাকাল মন্দিরে দর্শনের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা পর হরসিদ্ধি চৌরাহায় পৌঁছন। সেখানে আরও প্রায় ২ ঘণ্টা তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়। আরতির সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানান। সাগরের দাবি, হঠাৎ ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর দুই পা ব্যারিকেডের নীচে আটকে যায়। একটি পা ভেঙে গিয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: পানীয় জলের মান নিয়ে রেলের বড় পদক্ষেপ, ২০ হাজার জায়গায় বসবে পরিশোধন ব্যবস্থা
সাগরের অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি কারও সাহায্য পাননি। একজন ব্যক্তি তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য শিবিরে নিয়ে যান। পরে অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে ভর্তি এক আহত ভক্তের মা মীনু জানান, নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরে দর্শনের জন্য যাওয়ার সময় হরসিদ্ধি চৌরাহায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাঁর ছেলে ব্যারিকেডের নীচে চাপা পড়ে যান। মীনুরও অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। পরে এক ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।




