বিজেপি সোমবার অথবা চলতি সপ্তাহের যে কোনও দিন দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় ব্যাপক রদবদল করতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। এখন দলের ভাবমূর্তি নানা ক্ষেত্রে ধাক্কা খেয়েছে। শুধু তাই নয়, দুটি উপনির্বাচনে হেরে গিয়েছে বিজেপি। তাও আবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে। আর যে আসনটি উপনির্বাচনে জিতেছে বিজেপি সেটাতে ভোটের শতাংশের হার কমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন একটি নতুন টিম ঘোষণা করবেন বলে সূত্রের খবর। আর পদাধিকারীদের নতুন তালিকা তৈরি চূড়ান্ত হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নীতিন নবীন এবং দলের সংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের মধ্যে দফায় দফায় এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে যে বিষয়টি ভিতরে ঠিক হয়েছে সেখানে পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের তুলে আনা হবে সংঘঠনে। এমনকী বেশি পরিমাণে মহিলারা এবার সংগঠনে স্থান পাবে বলে সূত্রের খবর। সাংগঠনিক পদগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে বিজেপি ২০০৮ সালে তাদের দলীয় সংবিধান সংশোধন করেছিল। এই সংরক্ষণের আওতায় দলীয় সংগঠনের নানা স্তর—স্থানীয় ইউনিট থেকে শুরু করে রাজ্য এবং জাতীয় কমিটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংসদের বাদল অধিবেশন শেষের পরেই সাংগঠনিক রদবদল ঘোষণা হবে এমন ইঙ্গিত আগেই দলে দেওয়া হয়েছিল। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং তার পরদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলীয় কর্মসূচি থাকায় ঘোষণার জন্য সোমবারই বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিজেপি ৪৬ বছরের নীতিন নবীনকে তাদের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান হিসেবে উন্নীত করার পর থেকেই নতুন একটি পরিবর্তনের বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিল। দলীয় রদবদল পর্ব মিটলেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তবে এবারের তালিকায় পদবদলের পাশাপাশি ‘চমক’ও থাকছে বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির ভিতরের খবর, কেন্দ্রীয় সংগঠনে একঝাঁক নতুন মুখকে জায়গা দেওয়া হতে পারে। তরুণ নেতৃত্ব এবং মহিলা নেত্রীদের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভারসাম্য রেখে সংগঠনকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যই এমন পদক্ষেপ। নতুন টিমে নানা সাংগঠনিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি প্রচার এবং সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বেও নতুন মুখ আসতে পারে বলে সূত্রের খবর।
তাছাড়া কদিন আগে নয়াদিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন গোটা দেশ দেখেছিল। তাতে রীতিমতো চাপে পড়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু তাই নয়, দলের পক্ষ থেকেও সেটা ঠেকানো যায়নি। তবে এই নতুন টিমে ধর্মেন্দ্র প্রধান কোন পদ পান সেদিকে তাকিয়ে আছেন সকলে। ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন আছে। তার উপর ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন আছে। তাই শুধু সংগঠন সাজানো নয়, রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় দলের দায়িত্ব বণ্টন হতে পারে। তাই সংগঠনকে ভোটের ময়দানে আক্রমণাত্মক করে তোলাই নতুন টিমের প্রধান পরীক্ষা।




