সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতে যুবক উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থেকে বেঙ্গালুরু গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। তারপর থেকে নিয়মিত চলত কথোপকথন। স্বাধীনতা দিবসের দিন পশ্চিমবঙ্গের এই যুবককে গ্রেপ্তার করল কর্ণাটক পুলিশ। তবে কর্ণাটক পুলিশের সঙ্গে এই অভিযানে ছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। এই যুবক কোনও নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে এই যুবকের যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফ সূত্রে খবর।
এসটিএফ সূত্রে আরও খবর, বঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার নোয়াপাড়ার ওই যুবক চুপচাপ এসব কাজ করে যাচ্ছিল। ধৃত যুবকের নাম আসাফুল মালিক। শনিবার বাদুড়িয়ায় ওই যুবকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যায় কর্ণাটক পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। ২০২৫ সাল থেকে বেঙ্গালুরুর জিগানি শিল্পাঞ্চলের একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে কাজ করতে শুরু করে আসাফুল। সেখানে এপিসি সার্কেল এলাকায় থাকার সময়ই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছিল সে। অনলাইনে আসাফুলের সন্দেহজনক গতিবিধি পুলিশের চোখে পড়ে। তারপরই এপিসি সার্কেল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আসাফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কর্ণাটক পুলিশ সূত্রে খবর, বোম্মাসান্দ্রা শিল্পাঞ্চল এলাকায় টহলদারি করার সময় পুলিশের কাছে খবর আসে পশ্চিমবঙ্গের এক যুবক সন্দেহজনক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত। ওই তথ্য হাতে পাওয়ার পরই যুবকের খোঁজ শুরু হয়। তারপর এপিসি সার্কেল এলাকায় আসাফুলের হদিস মেলে। তাকে গ্রেপ্তার করে জেরা করলে আসাফুল স্বীকার করে, অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে যোগ দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে এই আসাফুল। তারপর তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাদুড়িয়ার যুবক।
তাছাড়া পুলিশের জেরায় আসাফুল স্বীকার করে, পাকিস্তানে মুসলিমদের উপর সে দেশের সেনার অত্যাচার সহ্য করতে পারছিল না। আর সেটাই তাকে পাক জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার পরই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন বিতর্কে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আসাফুল। সমাজমাধ্যমে ইমরান হায়দার নামে আফগানিস্তানের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসাফুল। এই হায়দার তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। আর আফগানিস্তানে যাওয়ার ছক কষেছিল আসাফুল হায়দারকে ধরেই। তার জন্য ভিসার আবেদনও করেছিল বলে সূত্রের খবর। আসাফুলের ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




