• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 15 August, 2026

নদিয়ার সার্কিট হাউসে কৃষ্ণনগরের সাংসদকে হেনস্থার অভিযোগ, মহুয়ার চিঠি স্পিকারকে

এই ফোন পাওয়ার পরই দরজার বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া হলেও

নদিয়ার সার্কিট হাউসে কৃষ্ণনগরের সাংসদকে হেনস্থার অভিযোগ, মহুয়ার চিঠি স্পিকারকে

MP Mohua Maitra Photo-ANI

রাতে নেমে এল সরকারি চাপ। আর এই ঘটনায় রীতিমতো রণংদেহী মেজাজ দেখালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, হঠাৎ রাতে সার্কিট হাউস ছেড়ে দিতে বলা হয় তাঁকে। বারবার সার্কিট হাউস ছেড়ে দেওয়ার ফোন এসেছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলে অভিযোগ জানিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কদিন আগে লোকসভার অধিবেশন শেষে রাজ্যে ফিরেছেন মহুয়া মৈত্র। শুক্রবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগরে যান তিনি। সেখানেই এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মহুয়া মৈত্র।

এই ঘটনা যখন ঘটে তখন তিনি গোটা ঘটনা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। রীতিমতো লাইভ ভিডিও করে সবার নজরে নিয়ে আসেন সেই ঘটনা। সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির লোকজন জড়ো হয় বলে অভিযোগ মহুয়ার। একদিকে সার্কিট হাউস ছাড়তে বলা হয় রাতে। অপরদিকে জয় শ্রীরাম থেকে শুরু করে গো-ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ সাংসদের। শুধু তাই নয়, কৃষ্ণনগরের সাংসদকে কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীনতা দিবসের আগের রাত ১১টা নাগাদ নদিয়ার সার্কিট হাউসে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি জানান, রাত ১০টা নাগাদ অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) ফোন করে তাঁকে সার্কিট হাউসের ঘরটি ছেড়ে দিতে বলেন।

এই ফোন পাওয়ার পরই দরজার বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া হলেও মহুয়া ঘর ছাড়েননি। বিষয়টি নিয়ে রাতেই তৃণমূল সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ওই চিঠিতে মহুয়ার দাবি, গত ১৩ আগস্ট স্পিকারকে নিজের কেন্দ্রে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং নিরাপত্তার আবেদনও জানিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে পৌঁছন তিনি। তারপরের ঘটনাক্রম তিনি উল্লেখ করেছেন চিঠিতে। এরপরই কৃষ্ণনগরের সাংসদের অভিযোগ, নদিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক তাঁকে ফোন করে জানান, সার্কিট হাউস ছাড়তে হবে তাঁকে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপর মহল থেকে নির্দেশ এসেছে’। তিনি শুধু বার্তাটি পৌঁছে দিচ্ছেন।

তাছাড়া জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হয় বলেও জানিয়েছেন মহুয়া। একটি নির্দেশের কপিও পাঠানো হয়েছে, যাতে লেখা ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য সার্কিট হাউসে নতুন কোন বুকিং রাখা যাবে না। তাই ঘর খালি করতে হবে। এই বিষয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘আমার বুকিং নতুন ছিল। তাই সেটা বাতিল করা হয়েছে। অথচ আমি যখন বুকিং করেছি, যখন সার্কিট হাউসে গিয়েছি তখন কেউ আমাকে এসব কিছু জানাননি। যদি সত্যিই নির্দেশ থাকত, আমাকে সেটা জানানোর জন্য রাত ১০টা পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করল প্রশাসন? ১০টা ৫২ মিনিটে কেন নির্দেশের কপি পাঠানো হলো? রাত ১১টা নাগাদ হঠাৎ আমি চিৎকার শুনতে পাই এবং বুঝতে পারি বাইরে বিশাল জমায়েত হয়েছে। আর স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।’ এই বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ওঁর দলের লোকরাই থাকতে দিচ্ছে না। আমরা কী করতে পারি।’