• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 13 August, 2026

ব্যাট করতে নেমে ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে তর্ক স্মিথের, ডিআরএসে বেঁচে যাওয়ার পর অকপট স্বীকারোক্তিও

৭ রানে থাকার সময় এবাদত হোসেনের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ যাওয়ায় জোরালো আবেদন উঠেছিল। মাঠের আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা নটআউট দিলেও রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। প্রযুক্তিতে স্পষ্ট প্রমাণ না মেলায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

ব্যাট করতে নেমে ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে তর্ক স্মিথের, ডিআরএসে বেঁচে যাওয়ার পর অকপট স্বীকারোক্তিও

Photo: X

ক্রিকেট মাঠে ব্যাটার ও বোলারের বাকযুদ্ধ নতুন নয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্টের প্রথম দিন স্টিভ স্মিথের সামনে যেন আরও এক প্রতিপক্ষ হাজির হয়েছিল। আর সেই ‘লড়াইয়ে’ জড়িয়ে পড়েন মাঠের ক্যামেরাম্যানও।

ব্যাট করার সময় সাইটস্ক্রিনের পিছনে কেউ হাঁটাচলা করায় বার বার বিরক্ত হচ্ছিলেন স্মিথ। ধারাভাষ্যকারদের নজরও এড়ায়নি বিষয়টি। তাঁরা বলতে শুরু করেন, সাইটস্ক্রিনের ওই প্রান্তে এমন কিছু ঘটছে, যা এখনও স্মিথকে বিরক্ত করে চলেছে।

ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, ‘হয়তো সাইটস্ক্রিনের কারণেও এমন হচ্ছে। ওই প্রান্তে ক্রিকেটের বাইরে এখনও কিছু একটা স্টিভ স্মিথকে বিরক্ত করছে। নীচের ক্যামেরাম্যান, না উপরের ক্যামেরাম্যান—কাকে নিয়ে তাঁর সমস্যা, তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না!’

স্মিথ যখন মনোযোগ ধরে রেখে ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করছেন, তখন মাঠের এক ক্যামেরাম্যান অবশ্য তাঁর বিরক্তিকে খুব একটা পাত্তা দিতে চাননি। উল্টে অস্ট্রেলীয় তারকাকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন, ‘ওই জিনিসটাকে ছেড়েই দাও, স্মাজ! রাজকুমারীর মতো নাক-সিঁটকিও না’।

ক্যামেরাম্যানের এই কথার পর স্মিথও চুপ করে থাকেননি। সাইটস্ক্রিনের পিছনে হাঁটতে থাকা এক ব্যক্তিকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আরে ভাই, ওই লোকটাকে একটু সরে যেতে বলো। পিছনে যে হাঁটছে, তার কথাই বলছি’।

কিন্তু ক্যামেরাম্যানের পাল্টা জবাব ছিল আরো মজার। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘স্টিভ, তুমি ক্রিকেটের চেয়ে তো বড় নও। যা হচ্ছে, সেটা মেনেই নাও!’

তর্কাতর্কি এখানেই শেষ হয়নি। গোটা ঘটনাটি দেখে মনে হয়েছে, এক দিকে ব্যাট হাতে রান করার চেষ্টা করছেন স্মিথ, অন্য দিকে তাঁকে নিয়েই যেন আলাদা ‘ফোকাস’ শুরু করেছেন ক্যামেরাম্যান! বলের দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে এই তর্কাতর্কিই শেষ পর্যন্ত দর্শকদের কাছে ম্যাচের আকর্ষণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করতে নেমে স্মিথকে তাই যেন তিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়— বোলার, সাইটস্ক্রিন এবং টিভি ক্যামেরাম্যান। শেষ পর্যন্ত কে জিতলেন, তার উত্তর অবশ্য সহজ নয়। তবে ক্রিকেট মাঠের গম্ভীর পরিবেশের মাঝেও স্মিথের বিরক্তি আর ক্যামেরাম্যানের রসিকতায় দর্শকদের হাসির খোরাক যে তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

এ দিন আরো একটি ঘটনা ঘটে, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন স্মিথ। তাঁর ইনিংসের শুরুতেই ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান স্মিথ। পরে আউটের আবেদন নিয়ে ডিআরএস নেওয়ার পর ফের রক্ষা পান। কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই ঘটনা নিয়ে একেবারে অকপটে স্বীকার করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক।

প্রথম দিনের খেলা শেষে অবশ্য সেই ঘটনাটি নিয়ে কোনও রাখঢাক করেননি স্মিথ। ৭ রানে থাকার সময় এবাদত হোসেনের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ যাওয়ায় জোরালো আবেদন উঠেছিল। মাঠের আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা নটআউট দিলেও রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। প্রযুক্তিতে স্পষ্ট প্রমাণ না মেলায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

কিন্তু খেলার পর স্মিথ বলেন, ‘আমারও তাই মনে হয়। বলটা ব্যাটে লেগেছিল বলেই মনে হয়েছিল’। ডিআরএসে বেঁচে যাওয়া কি ভাগ্যের জোর? প্রশ্ন শুনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার বলেন, ‘হ্যাঁ, মনে হচ্ছে আমি ভাগ্যবানই ছিলাম। কখনও কখনও এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতেই হয়’।

প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে খোলাখুলি কথা বলেন স্মিথ। তাঁর কথায়, সাধারণত প্রযুক্তির উপর তাঁর ভরসা রয়েছে। কিন্তু এ দিনের ঘটনায় তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, ঠিক কী হয়েছিল। স্মিথ বলেন, ‘সাধারণত প্রযুক্তি বেশ ভালই কাজ করে। হয়তো বলটা ব্যাটে লাগেনি, আমি জানি না। কিন্তু আমি অবশ্যই কিছু একটা অনুভব করেছিলাম। আমাকে যদি আউট দেওয়া হত, আমি প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতাম। তবে আজ মনে হয় প্রযুক্তিই আমাকে বাঁচিয়ে দিল’।

এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান স্মিথ। ১০৯ বলে ৭১ রান করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোরার হন তিনি। কিন্তু তাঁকে বাদ দিলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং প্রায় ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় হোম টিম। হাসান মাহমুদ একাই নেন ছয় উইকেট, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের দখলে দু’টি করে উইকেট।