• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 13 August, 2026

পাকিস্তানই আগ বাড়িয়ে প্রথম পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে, মার্কিন বিশেষজ্ঞের চাঞ্চল্যকর দাবি

পাকিস্তানই কি প্রথম পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে? রাজ শামানির পডকাস্টে ভূরাজনীতি বিশ্লেষক জিয়াং জুয়েচিনের মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক...

পাকিস্তানই আগ বাড়িয়ে প্রথম পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে, মার্কিন বিশেষজ্ঞের চাঞ্চল্যকর দাবি

Professor Jiang says Pakistan could use nuclear weapons first (AI Imagined)

সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ একটি পডকাস্ট (podcast) ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিখ্যাত ভূরাজনীতি বিশ্লেষক জিয়াং জুয়েচিন (Jiang Xueqin) এই ভিডিও মারফত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি কোনও দেশ প্রথম পরমাণু অস্ত্র (nuclear weapons) প্রয়োগ করে, তাহলে সেই তালিকায় সবার আগে থাকবে পাকিস্তানের নাম। উদ্যোগপতি তথা ইউটিউবার রাজ শামানির (Raj Shamani) পডকাস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। ভারতের প্রতিবেশী দেশ নিয়ে এমন সতর্কবার্তা স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কূটনৈতিক মহলে।

কী বলেছেন জিয়াং জুয়েচিন

গত ১১ আগস্ট আপলোড হওয়া প্রায় দু’ ঘণ্টার এই পডকাস্টে জিয়াং সরাসরি বলেন, পাকিস্তান অত্যন্ত দুর্বল, বিশৃঙ্খল ও দুর্নীতিগ্রস্ত একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। তাঁর দাবি, জরুরি পরিস্থিতিতে নিজেদের সামলে রাখার মতো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই (control systems) পাকিস্তানের নেই। যদিও একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান প্রজন্মের জীবদ্দশায় পরমাণু অস্ত্র আদৌ ব্যবহৃত হবেই, এমন সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। কারণ হিসেবে তাঁর যুক্তি, গোটা বিশ্বেই পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা (universal taboo) কাজ করে, যা কার্যত কোনও দেশকেই প্রথম আঘাত হানতে বাধা দেয়।

ভারত-পাক পরমাণু নীতির ফারাক

আলোচনায় জিয়াং তুলে ধরেন ভারত ও পাকিস্তানের পরমাণু নীতির মৌলিক পার্থক্য। তাঁর মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই নো ফার্স্ট ইউজ (No First Use) নীতি মেনে চলে, অর্থাৎ প্রথমে আক্রমণ না করার অঙ্গীকার। ভারতের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ প্রথাগত সামরিক শক্তি (conventional military strength) থাকায়, পাকিস্তানের মতো কৌশলগত চাপে ভারতকে পড়তে হয় না বলেও তাঁর দাবি। উল্টো দিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পরমাণু অস্ত্রকে ভারতের বিশাল প্রথাগত শক্তির বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিরোধ (deterrent) হিসেবে দেখে, এমনটাই তাঁর ব্যাখ্যা।

মুনিরের মন্তব্য ফের প্রাসঙ্গিক

জিয়াংয়ের এই দাবির সঙ্গে অনেকেই জুড়ে দিচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের (Asim Munir) একটি পুরনো মন্তব্য। ২০২৫ সালের আগস্টে আমেরিকার ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় এক নৈশভোজে তিনি বলেছিলেন, আমরা একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ, যদি মনে করি ডুবে যাচ্ছি, তাহলে গোটা বিশ্বের অর্ধেককেই সঙ্গে নিয়ে ডুবব। ভারত সেই সময় এই মন্তব্যকে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে হুমকি (nuclear sabre-rattling) বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পাকিস্তান অবশ্য মন্তব্যের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ অস্বীকার করে দাবি করে, তারা একটি দায়িত্বশীল পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র।

জিয়াং জুয়েচিন আসলে কে

এই মুহূর্তে ভাইরাল হওয়া মন্তব্যের নেপথ্যে থাকা মানুষটি সম্পর্কে জানাটাও জরুরি। জিয়াং জুয়েচিন ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক। চিনে দীর্ঘদিন শিক্ষা সংস্কার নিয়ে কাজ করেছেন, শেনজেন মিডল স্কুল, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাম্প্রতিক কালে প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি (Predictive History) নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল ও সাবস্ট্যাক (Substack) চালিয়ে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ২০২৪ সালে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন এবং ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের পূর্বাভাস দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে লক্ষণীয় বিষয়, এ বছরের মার্চে মার্কিন সাংবাদিক মেহদি হাসানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জিয়াং নিজেই স্বীকার করেন, তিনি আদতে কোনও প্রফেসর নন, মানুষ তাঁকে ওই নামেই ডাকতে শুরু করেছিলেন। অর্থাৎ তাঁর বিশ্লেষণ জনপ্রিয় ও চর্চিত হলেও, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে তিনি ভূরাজনীতির স্বীকৃত অধ্যাপক নন, এই বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ পশ্চিমবঙ্গেও এসে পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সীমান্ত নিরাপত্তা, সবক্ষেত্রেই। যদিও এই ধরনের পূর্বাভাসকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই, বরং একে একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা শ্রেয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করাচ্ছেন, ভারতের নো ফার্স্ট ইউজ নীতি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট মজবুত, তাই আশঙ্কার চেয়ে সতর্কতাই এখন বেশি জরুরি।