• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 13 August, 2026

‘ভোট ফেরত দিন’, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া চিঠি লিখলেন ভোটার

উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কড়া চিঠি লিখেছেন ওই কেন্দ্রেরই ভোটার হেমন্ত দে। আর সেই চিঠি সমাজমাধ্যমে

‘ভোট ফেরত দিন’, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া চিঠি লিখলেন ভোটার

MP Sudip Banerjee Photo-ANI

তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই ২০ জন সাংসদ তড়িঘড়ি দলত্যাগ করে এনসিপিআই দলে যোগ দেন। তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। এই নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে ভোটাররা রীতিমতো ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। যদিও তাতে বিশেষ গুরুত্ব দেননি সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য সাংসদরা। বরং তাঁরা আরও বেশি ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেন বিজেপি মন্ত্রী-সাংসদদের। এই আবহে এবার উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া চিঠি লিখলেন এক ভোটার।

এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ বিজেপি বিরোধী ভোট নিয়েই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যেতেই বিজেপি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এই সাংসদ। এই পরিস্থিতিতে উত্তর কলকাতার সাংসদের কাছে এক ভোটার সরাসরি চিঠি লিখে আর্জি জানান, ‘ভোট ফেরত দিন’। কারণ ভোটাধিকার নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলা’ হয়েছে বলে অভিযোগ ওই ভোটারের। এমন চিঠি যে আসতে পারে তা কল্পনাও করতে পারেননি সুদীপবাবু। এই চিঠি এখন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে চাপে পড়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কড়া চিঠি লিখেছেন ওই কেন্দ্রেরই ভোটার হেমন্ত দে। আর সেই চিঠি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী তথা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর কলকাতা থেকে একাধিকবার তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ। সেই তালিকার শীর্ষে আছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের হাত ধরেই রয়েছেন। সুতরাং স্বামী এক দলে এবং স্ত্রী আরেক দলে আছেন।

তাছাড়া এখন নয়াদিল্লি থেকে ছবি দেখা যাচ্ছে সংবাদমাধ্যমে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশে বসে আছেন। প্রাতঃরাশ থেকে শুরু করে নৈশভোজ সবই করছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গেও ছবি দেখা গিয়েছে। এমনকী নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠক করতেও দেখা গিয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এইসব কাজ দেখে ভোটার হেমন্ত দে কড়া ভাষায় সাংসদকে চিঠিতে লিখেছেন, ‘আপনার শারীরিক কুশল কামনা করে এই চিঠি। আমি মধ্য কলকাতার বউবাজার অঞ্চলের বংশপরম্পরায় পুরনো বাসিন্দা এবং একজন প্রবীণ নাগরিক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের রাজ্যে পালাবদলের পর আমরা এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সম্মুখীন হলাম। বিধানসভার নির্বাচন হলো। কিন্তু লোকসভার সাংসদ ভিন্ন দলের হয়ে গেলেন। যে নাগরিক লোকসভা এবং বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করালেন, তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন, তার পছন্দের জয়ী সাংসদ নিঃসঙ্কোচে একেবারে প্রতিপক্ষের শিবিরে চলে গেলেন সমর্থন দিতে। আমাদের সমর্থনে ভোটে জিতে আমাদের সম্মতি ব্যতিরেকে কিভাবে আপনি আপনার দলীয় আনুগত্য পরিবর্তন করেন। আমাদের সম্মতি, অর্থাৎ, পুনরায় আমাদের ভোটদান। আমার এই প্রশ্ন আইনের নয়, নৈতিকতার। নাগরিকদের পছন্দ, সমর্থন, সচেতন সিদ্ধান্তের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কোনও জনপ্রতিনিধির এককভাবে থাকতে পারে না। আমার ভোট ফেরত দিন।’