পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। তার জন্য সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজও জোরকদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফকে জমি দিয়েছেন নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে সীমান্ত এলাকায়। যাতে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে কেউ এপার বাংলায় ঢুকতে না পারে। এই কাজ চললেও কেউ কেউ ফাঁক-ফোকর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়ছে। এবার আবারও এমন একটি ঘটনা সামনে এলো। আর তার জেরে সোমবার ৭ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে ঢুকেছিল এই বাংলাদেশি নাগরিকরা। তারপর পরিচয় ঘোপন করে দীর্ঘদিন ধরে চেন্নাইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে যাচ্ছিল। এভাবেই বহাল তবিয়তে দিনও কাটাচ্ছিল বাংলাদেশের এই সাতজন নাগরিক। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। তার জেরে কড়াকড়ি হতেই ভয় পেয়ে আবার বাংলাদেশে পালানোর ছক কষেছিল তারা। কিন্তু এবার শেষরক্ষা হলো না। বৈধ নথিপত্র ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে গোপনে বাংলাদেশে ফেরার সময় মুর্শিদাবাদের লালগোলায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেল ৭ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।
বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের জন্য একটাই পথ ঠিক করা হয়েছে। সেটা হলো-ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট। অবৈধ পথে বাংলাদেশের নাগরিকরা অনুপ্রবেশ করলে তাদের হোল্ডিং সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার জন্য জেলায় জেলায় গড়ে উঠেছে হোল্ডিং সেন্টার। এই আবহে একসঙ্গে সাতজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর আসে কিছু লোক অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছে। ওই খবরের উপর ভিত্তি করেই লালগোলা থানার পুলিশ বয়রা-মিরপুরের মাঠে অভিযান চালায়। আর তখনই ওই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানায়, তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা। চেন্নাইয়ে শ্রমিকের কাজ করছিল পেটের তাগিদে। তাদের কাছে কোনওরকম বৈধ কাগজপত্র নেই। অভিবাসন প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিল তারা।
তাছাড়া বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই অনুপ্রবেশ বেড়ে গিয়েছে। সেটা ঠেকাতেই জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। আসলে অবৈধ পথে অনুপ্রবেশ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। সেখানে এই সাতজন ওপার থেকে এপারে অবৈধ পথে এল, আবার ফিরেও যাচ্ছিল। ধরা না পড়লে গোটা ঘটনা জানাই যেত না। পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে বলেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সকলেই ধরা পড়ে গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এখন অভিযুক্তদের পরিচয় এবং নথিপত্র যাচাই করার কাজ চলছে। এই বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত পারাপারের নেপথ্যে কোনও আন্তর্জাতিক মানব পাচার বা চোরাচালান চক্র রয়েছে কিনা, সেটাও তদন্ত করে দেখছেন অফিসাররা। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ধৃতদের ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ পাঠানো হতে পারে।




