• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 8 August, 2026

এফসিআরএ বিল নিয়ে ধোঁয়াশা, সোমবারের বৈঠকের সূচিতেও নেই! ১২ আগস্ট ঘিরে জল্পনা

বিলটি নিয়ে খ্রিস্টান সংগঠনগুলির মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমকের রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসনের নেতৃত্বে খ্রিস্টান

এফসিআরএ বিল নিয়ে ধোঁয়াশা, সোমবারের বৈঠকের সূচিতেও নেই! ১২ আগস্ট ঘিরে জল্পনা

Parliament Session Photo-SNS

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ সংশোধনী বিল, শেষ পর্যন্ত বাদল অধিবেশনেই সংসদে পেশ হবে কি না তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে বিলটি পেশ করে পাশ করানোর চেষ্টা হতে পারে বলে জল্পনা থাকলেও, সোমবারের সংসদীয় বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি বিএসির বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে আপাতত তার কোনও উল্লেখ নেই। একইভাবে, সীমানা পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিলের কথাও সূচিতে রাখা হয়নি। আগামী ১৩ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা বাদল অধিবেশনের।

সূত্রের খবর, সোমবারের বৈঠকে চারটি বিল পেশে এবং সেগুলির উপর আলোচনার জন্য সময় বরাদ্দের বিষয়টি ঠিক হতে পারে। তালিকায় রয়েছে খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬, ট্রাইব্যুনালস রিফর্মস বিল, ২০২৬, কেরলের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিল এবং ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন সংশোধনী বিল, ২০২৬। ফলে শেষ সপ্তাহের সূচিতে এফসিআরএ বিলের নাম না থাকায় সেটি আদৌ কবে সংসদে আসবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে এফসিআরএ বিলের নাম না থাকলেও ১০, ১১ এবং ১২ আগস্ট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বেড়েছে। শুক্রবার কংগ্রেস লোকসভা ও রাজ্যসভায় তাদের সাংসদদের ওই তিন দিন উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে হুইপ জারি করেছে। এই দিনগুলিতে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় হুইপে জানানো হয়েছে। বিরোধী জোটের শরিকদেরও সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ফলে এফসিআরএ বিল শেষ মুহূর্তে কার্যতালিকায় ঢোকে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে বিরোধী শিবিরেরও।

প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে অবশ্য শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি বিরোধীদের। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশি অনুদান পাওয়া সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বাড়ানোর নামে কেন্দ্রকে অত্যন্ত বেশি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। সংশোধনীতে বিদেশি অর্থে চলা সংগঠনগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করার পাশাপাশি, লাইসেন্স হারানো কোনও অলাভজনক সংস্থার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী নতুন কর্তৃপক্ষ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধীদের দাবি, বিলটি সরাসরি পাশ না করে যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জেপিসিতে পাঠানো হোক এবং ২০১০ সালের এফসিআরএ আইনেরও সামগ্রিক পর্যালোচনা করা হোক।

বিলটি নিয়ে খ্রিস্টান সংগঠনগুলির মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমকের রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসনের নেতৃত্বে খ্রিস্টান নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানায়। তাঁদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম-সহ দেশজুড়ে বহু সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়তে পারে। তাঁরা জানান, বিদেশি অনুদানের বৈধ নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা তাঁরা করছেন না। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ন্ত্রণের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে বহু প্রতিষ্ঠানের উপর চাপ তৈরি করতে পারে।

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমাও অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিলটি নিয়ে উদ্বেগ জানান। পরে তাঁর দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, ১২ আগস্ট সংসদে এফসিআরএ বিল নিয়ে আলোচনা ও পাশ করানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিলটি অতীতের ঘটনা বা পুরনো লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, অর্থাৎ এর কোনও রেট্রোস্পেক্টিভ প্রভাব থাকবে না, বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই পরিস্থিতিতে সোমবারের বিএসি বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, আপাতত সরকারি সূচিতে এফসিআরএ বিলের নাম না থাকলেও অধিবেশন শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন। ফলে শেষ মুহূর্তে বিলটি কার্যতালিকায় ঢোকে কি না, ১২ আগস্ট তা নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হয় কি না—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি সীমানা পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়েও জল্পনা রয়েছে, যদিও সোমবারের সূচিতে সেই বিলেরও কোনও উল্লেখ নেই।