• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 28 July, 2026

কেন্দ্রের অনুমতি পেলে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে বিরাট, রোহিত, বৈভবরা

আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পরে ভারতকে কার্যত বয়কট করেছিল বাংলাদেশ। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশেই

কেন্দ্রের অনুমতি পেলে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে বিরাট, রোহিত, বৈভবরা

PIC-X

আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পরে ভারতকে কার্যত বয়কট করেছিল বাংলাদেশ। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতে খেলতে আসবে না বলে ফেব্রুয়ারিতে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকেও নাম তুলে নেওয়ার মতো বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন ভারতের সঙ্গে ফের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্থাপনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় কথা, ভারতীয় বোর্ডও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে রাজি। তাই সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে দল পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে বোর্ডে। এ জন্য আফগানিস্তানের সঙ্গে নির্ধারিত সিরিজ পিছিয়ে দিতেও রাজি বিসিসিআই।

হঠাৎ কেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ নিয়ে আগ্রহ বেড়ে গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের, তা নিয়ে খোঁজখবর করতে জানা গেল, কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের পরামর্শেই নাকি এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বোর্ডসূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এখনো এই সিরিজ নিয়ে সবুজ সঙ্কেত না দিলেও প্রস্তুতি শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

বিসিসিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারতীয় দল বাংলাদেশে গিয়ে তিনটি টি-২০ ও তিনটি ৫০ ওভারের ওয়ান ডে ম্যাচ খেলবে এবং ম্যাচগুলি হবে সেপ্টেম্বরে। তবে এই সফরের সূচী এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

১৫ থেকে ২৭ অগাস্ট ভারতীয় দল শ্রীলঙ্কায় দুটি টেস্টের সিরিজ খেলবে, যার জন্য দলও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে মঙ্গলবার। এই সিরিজের পর ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি টি-২০ সিরিজ হওয়ার কথা ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে। তার পরে সেপ্টম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ভারত সফর শুরু হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের বাংলাদেশ সফরে সবুজ সঙ্কেত দিলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই সিরিজ আপাতত মুলতুবি করা হবে বলে বোর্ডসূত্রের খবর।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক উচ্চপদস্থ কর্তা ‘দৈনিক স্টেটসম্যান ডিজিটাল’-কে ঢাকা থেকে ফোনে জানান, ‘সম্প্রতি আমাদের সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডকর্তাদের যে আলোচনা হয়েছে, তাতে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে এসে ছ’টি ম্যাচ খেলতে রাজি। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তাদের দল বেশি সফর করতে পারবে না। বড়জোর দুটি শহরে গিয়ে খেলতে পারে তারা’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্তা আরো জানান, ‘ভারতের এই শর্তে আমাদের বোর্ড রাজি হয়েছে। কারণ, ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে আমাদের পক্ষে তা সব দিক থেকেই শুভ। আমাদের ক্রিকেটার ও ক্রিকেটপ্রেমীরা এই সিরিজ নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী। তাছাড়া, আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তো আছেই। টি-২০-তে ভারত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এই দলে বৈভব সূর্যবংশীর মতো বিস্ময় কিশোর খেলছে। এ ছাড়া ওয়ান ডে দলে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা খেলেন। তাই কোনো ভাবেই এই সুযোগ আমরা হাতছাড়া করতে রাজি নই’।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, প্রাক্তন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল এই সিরিজ নিয়ে সব রকম ভাবেই ভারতীয় বোর্ডকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি সিরিজ ঢাকায় ও অন্যটি চট্টগ্রামে হতে পারে। কারণ, এই দুটিই সে দেশের সেরা ও সবচেয়ে নিরাপদ দুই ক্রিকেট ভেনু।

আপাতত ভারতীয় দলের এই প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফর একটা জায়গাতেই আটকে— কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সঙ্কেত। সেদেশে ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা কতটা, তা খতিয়ে দেখে তবেই সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হবে বলে বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের এই ছাড়পত্র পেলে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে বরফ গলবে। ফের দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ক্রিকেট দ্বৈরথের রাস্তা ফের মসৃণ হতে শুরু করবে।