নিট প্রশ্নফাঁস কান্ডের প্রতিবাদে গোটা দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। কলকাতাতেও সেই আন্দোলনের আঁচ এসে পড়েছে। শনিবার নিট-এর প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর মিছিল ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেই জমায়েতে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কেও পুলিশ আটক করে। যদিও এদিন সন্ধ্যেতেই পুলিশ কুণাল ঘোষ-সহ বাকিদের ছেড়ে দেন। আর তারপরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক।
কুণাল ঘোষ এদিন ছাড়া পেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমাদের অকারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এখন আমাদের ছাড়া হয়েছে। বাকিদেরও ছাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকদের এভাবে হেনস্থা করে আটকে রাখা যাবে না। আমরা দালাল, বেইমান, বালিশচাটা দলের নই। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছি। যদি কোনও সমস্যা থাকে, তাহলে সেটা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া যেত।’
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কালীঘাট তৃণমূলকে জমায়েত করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। লালবাজারের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েও অনুমতি মেলেনি। কিন্তু অনুমতি না মেলার পরেও শনিবার বিকেলে সিআইটি রোডের পদ্মপুকুর মোড়ে কালীঘাট তৃণমূল বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে। ঘটনার জেরে সিআইটি রোড দীঘর্ক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। হাইকোর্টে অনুমতি ছাড়াই মিছিলে অনড় থাকতে দেখা যায় ‘কালীঘাট তৃণমূল’-কে।
তবে সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর বচসা শুরু হয়। এর জেরে মিছিলে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে আসেন। তৃণমূল নেত্রীর উপস্থিতিতে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে চলে আসেন। সেখানে ডেরেক ও’ ব্রায়েন ওবং দোলা সেন-রা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ আদালতের নির্দেশের কথা বলে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পুলিশ আধিকারিকরা আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালতের অনুমতি না থাকায় আন্দোলন করা যাবে না। কিন্তু এরপরেও বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ না হওয়ায় কুণাল ঘোষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন: ‘আমায় বলতে দেওয়া হচ্ছে না, এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত’, বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ
মিছিলের অনুমতি চেয়ে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর আর্জি খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও কালীঘাট তৃণমূলের জমায়েত ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কুণাল ঘোষ-সহ বাকি নেতৃত্বকে পুলিশ লালবাজারে নিয়ে যায়। মমতা বলেন, ‘আমরা ছাত্র-যুবদের সঙ্গে ছিলাম, আছি।’




