সম্প্রতি বিধানসভায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে স্পিকার অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকারের নির্দেশে মার্শালরা কুণাল ঘোষকে বিধানসভা কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে ও চ্যাংদোলা করে বাইরে নিয়ে যান। সেই ঘটনা প্রসঙ্গে শনিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কুণাল ঘোষ। তবে শুধু এই ঘটনাই নয়, এর পাশাপাশি শুক্রবার কলকাতার প্রতিবাদ মিছিলে সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনারও তীব্র নিন্দা করেছেন কুণাল। সেই সঙ্গে গুন্ডা দমন আইন নিয়েও মন্তব্য করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
বিধানসভা থেকে বের করা নিয়ে কুণালের ক্ষোভ
বিধানসভা থেকে বের করা নিয়ে কুণাল ঘোষের দাবি, নির্বাচিত বিধায়কের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। উপরমহলের নির্দেশে তাঁকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, অতীতেও তিনি নির্বাচিত বিধায়কদের অধিকার খর্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, স্পিকার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়ে বিজেপির স্বার্থ রক্ষা করছেন। বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদেরই সেই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আমি বললে সরকার অস্বস্তিতে পড়বে বলেই আমাকে পরিকল্পিতভাবে আটকানো হচ্ছে।’
সেবাশ্রয় নিয়ে কুণালের মন্তব্য
‘সেবাশ্রয়’ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ জানান, ওই বিষয় সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা নেই। তিনি কখনও সেখানে যাননি। তাঁর কথায়, ‘যাঁকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তিনি বিধানসভার সদস্য নন। তাই বিধানসভার মঞ্চ ব্যবহার না করে বিষয়টি সংসদে বা উপযুক্ত জায়গায় তোলা উচিত।’
সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে শুক্রবার কলকাতায় পথে নামে ছাত্র-যুবা থেকে শুরু করে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই এই প্রতিবাদ মিছিলের জেরে রীতিমতো অবরুদ্ধ হয়ে যায় ধর্মতলা চত্বর। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, বোতল ছোঁড়া শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
তারপরেই পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। শিয়ালদহ চত্বরও কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ডোরিনা ক্রসিং চত্বরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের তরফে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। মিছিল থেকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট, বোতলও ছোঁড়া হয়। এমনকী আক্রমণের হাত থেকে বাদ যাননি সাংবাদিকেরাও। সেই ঘটনায় কর্তব্যরত সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘বিজেপির কোনও নেতা ডিম ছুঁড়লে সেটাকে জনরোষ বলা হয়। আমি জানি কোনটা জনরোষ আর কোনটা অসভ্যতা। সাংবাদিকদের উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
গুন্ডা দমন আইন নিয়ে মন্তব্য
গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগের প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘সামান্য ঘটনাতেই যদি গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হয়, তাহলে কিছুই করা যাবে না। তবে যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে গণ্ডগোল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘কাউকে সমর্থন করতে যেতেই পারেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। যারা তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হওয়া উচিত।’




