পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ক্রমশ পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত অব্যাহত। শনিবার জর্ডনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরান জর্ডনে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কুয়েতও জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। এর ফলে সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের আরও বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
জর্ডনের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবার ভোরে সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করেছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলে।
অন্যদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, নতুন করে ইরানের হামলার জবাবে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, তা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার সময় হয়েছে। তবে হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সরকার জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড(সেন্টকম) জানিয়েছিল, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইরান কাতার ও কুয়েত-সহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
এদিকে হরমুজ় প্রণালী ঘিরেও ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে লাগাতার সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কোনও সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প। ইরানকে মূল্য চোকাতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইআরএনও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় চাবাহার বন্দরের একটি নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে। পরে মার্কিন সেনাবাহিনী হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বাড়ছে।




