• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 16 July, 2026

স্পিকারের সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপ কতটা সম্ভব? শোভনদেবের মামলায় প্রশ্ন বিচারপতি শম্পা সরকারের

শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, বিধানসভার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সাধারণত আদালত হস্তক্ষেপ করে না। আদালত জানায়, আইনসভার ভিতরে যা ঘটছে, তা নিয়ে বিচার বিভাগ অত্যন্ত সীমিত ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করে।

স্পিকারের সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপ কতটা সম্ভব? শোভনদেবের মামলায় প্রশ্ন বিচারপতি শম্পা সরকারের

File Photo

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। মামলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী জয়দীপ করের যুক্তি, তৃণমূল কংগ্রেসের গঠনতন্ত্রে বিরোধী দলনেতা বা চিফ হুইপ নির্বাচনের কোনও নির্দিষ্ট বিধান নেই।

তিনি আদালতে জানান, ৬ মে একটি বৈঠকের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই বৈঠক হয়নি। ওই বৈঠকের কোনও স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণী (মিনিটস) নেই। ৯ মে-র বৈঠকের মিনিটসও আদালতে পেশ করা হয়নি। বরং মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারীর দাবি, ওই স্বাক্ষর জাল এবং সেই অভিযোগে ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

জয়দীপ কর আরও জানিয়েছেন, স্পিকার ১৫ মে-র একটি চিঠির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে ৩ জুন ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়। যেখানে দাবি করা হয়, এটি বিধায়ক দলের সিদ্ধান্ত। সেই চিঠির ভিত্তিতেই স্পিকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি স্বীকৃতি দেন। আইনজীবীর প্রশ্ন, বিধায়ক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্পিকারের এই পদক্ষেপ বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে কি না।

শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, বিধানসভার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সাধারণত আদালত হস্তক্ষেপ করে না। আদালত জানায়, আইনসভার ভিতরে যা ঘটছে, তা নিয়ে বিচার বিভাগ অত্যন্ত সীমিত ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ করে। এর জবাবে জয়দীপ কর বলেন, ‘স্পিকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিষয়টি যেহেতু বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কাছেও বিচারাধীন, তাই আদালত চাইলে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে। কারণ, কোন গোষ্ঠী দলের প্রতীক ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি পাবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।’

এদিন আদালতে মূল প্রশ্ন ছিল, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে এই পর্যায়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা যায় কি না। মামলার শুনানি শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় হবে।