ফের চোটের আতঙ্ক শুভমন গিলের। এর আগে চোট পেয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। ফের মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ভারতীয় দলের অধিনায়ক।
ব্যাট হাতে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন গিল। ৭৫ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তবে ভারতের ইনিংসের ২৬তম ওভারে আচমকাই সমস্যায় পড়েন ভারত অধিনায়ক। ডান পায়ের পিছনের অংশ চেপে ধরেন তিনি। ঠিকমতো দাঁড়াতেই পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত মাঠেই শুয়ে পড়েন।
ঘটনাটি দেখে ধারাভাষ্যকারদের মধ্যেও জল্পনা শুরু হয়। এ কি শুধুই পেশিতে টান (ক্র্যাম্প), নাকি তার চেয়েও গুরুতর কোনও চোট— তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং চালিয়ে যেতে না পেরে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়েন শুভমন।
মঙ্গলবার অক্ষর পটেলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি প্রসিধ কৃষ্ণ ও গুরনূর ব্রারের নিয়ন্ত্রিত গতি এবং বাউন্সের দাপটে ইংল্যান্ডকে ২৫৮ রানের মধ্যেই গুটিয়ে দেয় ভারত। ভারতীয় ব্যাটাররা সেই রান তুলে নেয় প্রায় পাঁচ ওভার বাকি থাকতেই, মাত্র চার উইকেট হারিয়ে।
ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অক্ষর। বাঁহাতি স্পিনে নিখুঁত লাইন-লেংথ বজায় রেখে তিনি চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং মেরুদণ্ডে আঘাত করেন। প্রসিধ কৃষ্ণ ও গুরনূর ব্রারও দুটি করে উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে, একটি উইকেট নিয়ে একদিনের ক্রিকেটে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন যশপ্রীত বুমরা। গোটা ইনিংস জুড়েই ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন ভারতীয় বোলাররা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। শুরুটা ভালো হলেও মাঝের ওভারগুলোতে তাদের ইনিংসে ধস নামে। মাত্র ১৯ রানের মধ্যে পাঁচটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। পরে জো রুট এবং লিয়াম ডসনের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত ৪৭.৫ ওভারে ২৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।
রান তাড়া করতে নেমে একসময় ১৬০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। তবে পঞ্চম উইকেটে অক্ষর পটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর অপরাজিত ১০২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। অক্ষর ৫২ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন সুন্দরও ৫২ রানে অপরাজিত থেকে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।
রান তাড়া করতে নেমে একসময় ১৬০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। ভারতীয় দলের দুই অভিজ্ঞ তারকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা কেউই এ দিন বেশি রান করতে পারেননি। রোহিত ওপেন করতে নেমে ১১ রান করে হ্যারি ব্রুকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান এবং বিরাট মাত্র পাঁচ রান করে জোফ্রা আর্চারের বলে এলবিডব্লু-র ফাঁদে পড়ে ইনিংস শেষ করেন।তবে পঞ্চম উইকেটে অক্ষর পটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর অপরাজিত ১০২ রানের জুটি গড়ে দলকে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।
অক্ষর ৫২ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন সুন্দরও ৫২ রানে অপরাজিত থেকে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে শুভমন গিল ৭৫ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও চোটের কারণে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
ম্যাচের শেষে শুভমন গিল পুরস্কার নিতে এসে জানান তিনি সুস্থ আছেন। দলের জয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা যখন রান করে ম্যাচ শেষ করে দেয়, তখন অধিনায়ক হিসেবে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। আমাদের মূল ভাবনা ছিল দলের কম্বিনেশন নিয়ে। আমাদের বোলিং আক্রমণ তুলনামূলকভাবে তরুণ, কিন্তু ব্যাটিং অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তাই লক্ষ্য যদি ৩০০-৩২০ রান হলেও বিশ্বাস করতাম যে সেটা তাড়া করে জিততে পারব’।
বোলিংয়ের প্রশংসা করে ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘মাঝের ওভারগুলোতে আমাদের বোলিং খুব ভালো হয়েছে। আমরা ঠিক জায়গায় বল করেছি। পাওয়ারপ্লের শেষদিকে ওরা কিছুটা সুবিধা আদায় করে নিয়েছিল এবং আমাদের চাপে ফেলে দেয়। কিন্তু সেখান থেকে যেভাবে আমরা ম্যাচে ফিরে এসেছি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করে দেখব, যাতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই সবচেয়ে ভালো ভারসাম্য পাওয়া যায়। এখানকার পরিস্থিতি অনেকটা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ছিল। বল অতিরিক্ত বাউন্স করছিল, ফলে রান করা সহজ ছিল না। তবে পরে উইকেট অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়’।




