কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে বা মাইকেল অলিসের আগুনে ঝলক তো রয়েছেই, ফরাসি শিবিরের দাবি, দলের সাফল্যের সবচেয়ে বড় অস্ত্র মাঠে নয়, বরং তৈরি হয় মাঠের বাইরেই। ড্রেসিংরুমে ও টিম হোটেলের আড্ডা এবং খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা—এই অদৃশ্য রসায়নই নাকি স্পেনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিয়ো জানিয়ে দিয়েছেন, কোচ দিদিয়ের দেশঁর ট্যাকটিক্যাল মিটিংয়ের বাইরে খেলোয়াড়রা নিজেরাই নিয়মিত বসেন। ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করেন, কে কোথায় আরও ভালো করতে পারতেন, তা নিয়ে নির্ভয়ে আলোচনা করেন। কোনও অহংকার নয়, দোষারোপও নয়—বরং একে অপরকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই চলে এই বৈঠক।
রাবিয়োর কথায়, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলি। শুধু কোচদের নির্দেশ শোনা নয়, খেলোয়াড় হিসেবেও নিজেদের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়। এই বিশ্বাস এবং বোঝাপড়াই আমাদের আরও শক্তিশালী করেছে’।
ডিফেন্ডার জুল কুন্ডের কথাতেও একই সুর। তিনি বলেছেন, দলের এই ঐক্যই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর মতে, শুধু আক্রমণভাগ নয়, পুরো দল একসঙ্গে রক্ষণে নেমে আসে। আবার বল পেলে সবাই মিলে আক্রমণ গড়ে তোলে। সেই কারণেই মাঠে ফ্রান্সকে এতটা সংগঠিত দেখায়। কুন্ডের কথায়, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। সবাই একে অপরের জন্য লড়ে। মাঠের বাইরের সম্পর্কই মাঠের খেলায় প্রতিফলিত হচ্ছে’।
এই বিশ্বকাপ ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁর কাছেও বিশেষ আবেগের। ২০১২-য় দায়িত্ব নেওয়া দেশঁ আগেই ঘোষণা করেছেন, এই বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দলের কোচের পদ ছাড়বেন। তার মধ্যেই সম্প্রতি মাকে হারিয়েছেন তিনি। ফলে গোটা দলই কোচকে স্মরণীয় বিদায় উপহার দিতে মরিয়া।
রাবিয়োদের বিশ্বাস, এই আবেগই দলকে আরও একসুতোয় বেঁধেছে। পরপর তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সামনে এখন শুধু স্পেন বাধা। তবে ফরাসি শিবিরের বার্তা স্পষ্ট—এমবাপ্পের গতি কিংবা দেম্বেলের ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি, ড্রেসিংরুমের সেই অকপট কথোপকথনই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় ‘গোপন অস্ত্র’।




