প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের দিনই তাঁর সরকারি বাসভবনের ভায়াবহ ধ্বংসের ভিডিও প্রথমবার প্রকাশ করল ইরানের সরকারি গণমাধ্যম। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পরই খামেনির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। । তারপর দীর্ঘ ৪ মাস সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া তাঁর বাসভবনের ছবি এতদিন প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর দাফনের দিন ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রত্যক্ষ করেন বিশ্বের মানুষ। ভিডিওতে ধরা পড়েছে, তেহরানে অবস্থিত খামেনির বাসভবন, যার নাম ‘বেয়ত-ই রাহবারি’ ।
প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সেটি। ভেঙে পড়েছে ছাদ ও দেওয়ালের বড় অংশ, কংক্রিটের চাঙড় ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইমাম খোমেনি হুসাইনিয়া হল, যেখান থেকে খামেনি নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিতেন এবং বৈঠক করতেন। হামলার পর এই হলঘরটিও কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়। যদিও প্রকাশিত ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ইরানের দাবি, ওই হামলায় শুধু খামেনি নন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হন।
তাঁদের মধ্যে ছিলেন খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা, তাঁদের কিশোর ছেলে মোহাম্মদ বাঘের এবং মাত্র ১৪ মাস বয়সের এক নাতনি। মুজতবা খামেনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনিই দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।যুদ্ধের কারণে খামেনির শেষকৃত্য দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে যায়। প্রায় ১২৬ দিন পর উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পর তেহরান, কুম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ পর্যন্ত মাশহাদে পৌঁছয় শবযাত্রা। এই শহরেই জন্ম হয়েছিল খামেনির।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহে রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন আলি খামেনি। টানা ৩৬ বছর তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন পশ্চিমী দেশ ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের অন্যতম মুখ। শেষকৃত্যের দিন তাঁর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপের ভিডিও প্রকাশ করে সেই হামলার ভয়াবহতার ছবিই বিশ্বের সামনে তুলে ধরল তেহরান।




