নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এদিন তিনি সশরীরে পৌঁছে যান নবান্নে। সোমবার ‘পদ্মশ্রী’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাড়িতে গিয়ে অভিনেতার সঙ্গে দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তখন সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। ১৫ মিনিট শাহী সাক্ষাৎ হলেও তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। প্রসেনজিৎ ঠিক তিনদিনের মাথায় নবান্নে হাজির হলেন। শাহী সাক্ষাতের পর হঠাৎ কেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন অভিনেতা? উঠছে প্রশ্ন।
এদিকে আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই এই ধারাবাহিক বৈঠক বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও বৃহস্পতিবারই বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে গিয়ে দলে যোগ দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। দল বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তাঁরা পদত্যাগ করেন। এবার বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার রাস্তা মসৃণ করলেন বলে সূত্রের খবর। এই তিনজনকে যদি বিজেপি রাজ্যসভায় পাঠায় তাহলে প্রসেনজিৎ কোথায় যাবেন? উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন প্রসেনজিৎ বলেও বিজেপি অন্দরে চর্চা চলছে। যদিও এই নিয়ে কেউ কোনও কথা বলেনি। তবে আগেও বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্য প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন। চলতি বছর পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর থেকেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়। তবে অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে এসে দেখা করলেন এবং তিনি নিজে ছুটে গেলেন শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, সেটা এমনি যে নয় তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
তাছাড়া এদিন নবান্নে প্রসেনজিৎ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শতাব্দী রায় এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তবে এই বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। এমনকী প্রসেনজিতের সঙ্গেও বৈঠকের উদ্দেশ্য বা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। সূত্রের খবর, রাজ্যের চলচ্চিত্র শিল্প থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো এবং টলিউডের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমনকী ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়ন এবং শিল্পীদের স্বার্থে সম্ভাব্য কিছু উদ্যোগ নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী অভিনেতার এই ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রসেনজিতের বারবার বৈঠক কি সত্যিই সৌজন্য সাক্ষাৎ? উঠছে প্রশ্ন।




