কথায় আছে বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ? তা নিয়ে অনেক বিতর্কের ঝড় উঠে থাকে। তেমনই ফুটবল মাঠে ‘ভার’-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার পাহাড় ক্রমেই বড় হচ্ছে। রেফারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘ভার’-কে গুরুত্ব দেওয়ার অনেক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। তাই প্রযুক্তিকে অযাচিতভাবে প্রয়োগ করার ফলে কুফলটা প্রকাশ পাচ্ছে। যার জন্য ছোট লড়াকু দলগুলি তাদের জায়গা থেকে ছিটকে যাচ্ছে।
বড় বা তারকা সমৃদ্ধ দলগুলিকে বেশি পাত্তা দেওয়া হচ্ছে ফিফার পক্ষ থেকে। সব সিদ্ধান্ত যদি ‘ভার’ প্রক্রিয়ায় পাঠিয়ে দিতে হয়, তাহলে মাঠে রেফারির প্রয়োজন নেই। রোবট খেলা পরিচালনা করবে। রেফারি শিরদাঁড়া সোজা রেখে বাঁশি হাতে নিরপেক্ষতার প্রকাশ করবেন— এটাই তো স্বাভাবিক। এখন আর নিজেদের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন না রেফারিরা। ফিফা তাহলে এ ব্যাপারটা মদত দিয়ে চলেছে।
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের আকর্ষণ চলে যাওয়ার মুখে কোনওক্রমে ছিটকে যাওয়া থেকে বেঁচে গিয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। মিশরের সঙ্গে সম্মুখ সমরে আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর ম্যাচে যে বিপদের মুখে দাঁড়িয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তর চিন্তা ছিল। শেষ ষোলোর খেলায় নেইমারের ব্রাজিল ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল বিদায় নেওয়ায় ফিফা মহাসংকটে পড়ে যায়।
তারপরে লিওনেল মেসিরা যদি ছুটি নিয়ে নিত, তবে বিশ্বকাপের জৌলুস একেবারে হারিয়ে যেত। আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা ছিটকে যাওয়ায় দর্শকরাও হতাশ হয়ে যান। ঘরের ফুটবলারদের সমর্থন জানানোর জন্য তাঁরা মাঠমুখো হচ্ছেন না। এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড বা স্পেনকে নিয়ে চর্চা হচ্ছে। ফুটবলারদের মধ্যে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, হ্যারি কেন ও লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে এখন ভাবনা। সবচেয়ে বড় কথা হল মেসি। যদি মিশরের কাছে আর্জেন্টিনা হেরে যেত, তাহলে বিশ্বকাপ বলতে যে চরিত্র, তা ম্লান হয়ে যেত।
শেষ আটের দলগুলির মধ্যে ৬টি ইউরোপ মহাদেশের। আর কাফে ও কনমেবলের একটা করে দল টিকে রয়েছে। তাই ফিফাকে অন্য পথ ধরতে হবে, তা ছাড়া অন্য উপায় ছিল না বিশ্বকাপ ফুটবলের আকর্ষণ ধরে রাখার জন্য।আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের খেলায় ‘ভার’-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মিশরের ফুটবলার জিকোর একটা নিশ্চিত গোল বাতিল করেছে ‘ভার’।
কিন্তু নিশ্চিত গোলটা কেন বাতিল করা হল, তা নিয়ে মিশরের জিকো সহ সতীর্থ ফুটবলাররা এবং কোচ প্রতিবাদের সুর চড়া করেছিলেন। আসলে ভার প্রযুক্তি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। সুন্দর স্বপ্নের ফুটবল হারিয়ে যাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। তাই তো মিশরের ফুটবলার জিকো হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, আমরা যদি লড়াই করে হেরে যেতাম, তাতে কোনও দুঃখ ছিল না। কষ্ট পেতাম না। কিন্তু জোর করে হারিয়ে দিলে কোনও কথা নেই। তবে এইভাবে ফুটবলকে মেরে ফেলা হয়, তাহলে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
‘ভার’-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা শুধু কটাক্থ করছেন, তাই নয়— রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে সাসপেন্ড ও বাতিলের দাবি তুলেছেন। যেভাবে রেফারি মিশরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে টেনে খেলিয়েছেন, তা অবশ্যই দৃষ্টিকটু। মিশরের আস্ফালনকে যেভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছেন রেফারি, তা একরকম চক্রান্ত। রেফারিরা হয়তো আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ তুলে দিতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন ফিফার নির্দেশে। রেফারির পক্ষপাতিত্বে খেলার ছন্দ শুধু নষ্ট হয়নি, আর্জেন্টিাকে জেতাতে পথ মসৃণ করে দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এখন কাঠগড়ায় রেফারি।
মিশরের ফুটবলার যে ফাউল করেছিলেন, ঠিক সেইভাবে মিশরের আক্রমণভাগের ফুটবলারকে ফাউল করেন বক্সের মধ্যে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার। তখন কেন রেফারি চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন। রেফারির চোখ খোলা থাকলে পেনাল্টি পেতে পারত মিশর। সেই সময় কেন ‘ভার’ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হল না? মেসিদের জিতিয়ে দিতে হবে এই খেলা আগেই যদি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে মাঠে নামার যুক্তি থাকত না। মিশরের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত ফিফা কী ভূমিকা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।




