• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 9 July, 2026

‘ব্রেন ড্রেনকে ব্রেন গেইনে রূপান্তরিত করাই লক্ষ্য’, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ছাত্রীদের রেকর্ড ভর্তিতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথম রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়ে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন ২৭ হাজার ১৩৫ জন পরীক্ষার্থী।

‘ব্রেন ড্রেনকে ব্রেন গেইনে রূপান্তরিত করাই লক্ষ্য’, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ছাত্রীদের রেকর্ড ভর্তিতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-ANI

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় পড়ুয়াদের ভর্তি বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন বোর্ড পরিচালিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি এবং আর্কিটেকচার কোর্সের প্রথম রাউন্ডের কাউন্সেলিং শেষ হতেই সামনে এসেছে বড় পরিসংখ্যান। এবার প্রথম রাউন্ডের কাউন্সেলিং শেষেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন প্রায় ১০০ শতাংশ পূরণ হয়েছে। যা ২০২৫ সালের তুলনায় কারিগরি শিক্ষা নিতে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের মোট সংখ্যা একধাক্কায় প্রায় ৩৪.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নিয়ে গর্বিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের মনের উচ্ছ্বাস সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে দিয়েছেন পড়ুয়াদের বার্তাও।

এদিকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথম রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়ে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন ২৭ হাজার ১৩৫ জন পরীক্ষার্থী। কিন্তু ২০২৬ সালে ওই সংখ্যা একধাক্কায় বেড়ে হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৩১ জন। যা গত বছরের তুলনায় এবার ১৫ হাজার ২৯৬ জন বেশি পড়ুয়া জয়েন্টের মাধ্যমে রাজ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সরকারির পাশাপাশি প্রথম রাউন্ডে বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও উল্লেখযোগ্য হারে আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত প্রথম রাউন্ডের এই ভর্তির প্রক্রিয়া চলবে। তারপর আরও দুই রাউন্ডের কাউন্সেলিং মিলিয়ে জুলাই মাসের মধ্যেই পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে খবর।

 

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষায় এবার মেয়েদের আগ্রহ অনেক বেশি দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭১৮ থেকে ৪১.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এবার আবেদনকারী ছাত্রীর সংখ্যা ৯ হাজার ৫২৮ জন। আর ছাত্রের সংখ্যা ২০২৫ সালে ছিল ২০ হাজার ৪১৭ জন। যা ৩১.৭৮ শতাংশ বেড়ে ২০২৬ সালে হয়েছে ২৬ হাজার ৯০২ জন। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বহু বছর পর এই প্রথম, জয়েন্ট এন্ট্রান্স কাউন্সেলিংয়ের প্রথম রাউন্ডেই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির সমস্ত আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত গর্ব ও আশার বিষয়। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাজ্যে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে ‘ব্রেন ড্রেন-কে’ (মেধার পলায়ন) ‘ব্রেন গেইন’-এ (মেধার আহরণ) রূপান্তরিত করা। এই ট্রেন্ড স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আমাদের উজ্জ্বল ছাত্রছাত্রীরা এখন উচ্চতর কারিগরি শিক্ষার জন্য নিজেদের রাজ্যকেই বেছে নিয়েছে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আবারও আস্থা রাখছে দেখে মন ভরে যাচ্ছে।’

তাছাড়া রাজ্যের কলেজগুলিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছিলেন পড়ুয়ারা। সেই কারণে ধুঁকছিল সরকারি, বেসরকারি কলেজগুলি। চলতি শিক্ষাবর্ষের জয়েন্ট এন্ট্রান্সের প্রথম দফার কাউন্সেলিংয়ের কদিন বাকি থাকতেই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির সমস্ত আসন পূরণ হয়ে গিয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘সমগ্র রাজ্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির আধুনিকীকরণ ঘটাতে এবং উদ্ভাবন ও শ্রেষ্ঠত্বের এক উন্নত পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা বেশ কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—ঘরের মেধা বাইরে যাওয়া বন্ধ করে রাজ্যেই বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি করা এবং মেধা ধরে রাখা। যাতে আমাদের প্রতিভাবান যুবসমাজ নিজেদের ভবিষ্যৎ এখানেই গড়তে পারে। আর পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।’