বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কার্যত তোলপাড় হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। এর মধ্যে এই ঘটনায় চার অভিযুক্তের মধ্যে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে প্রভাস মণ্ডলের। বুধবার সকালে এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নির্যাতিতার পরিবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাদ যায়নি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও। এবার এই ঘটনার পরে কামদুনির বিচার নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলার ফাইল খোলার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই নিয়ে আবেদন জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের তদন্তের অভাবে অনেক বছর পরেও কামদুনির নির্যাতিতা বিচার পাননি। তার বদলে অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে গিয়েছে।
পার্কস্ট্রিট প্রসঙ্গের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাজ করার ধরন নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানান, সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নিজের মতো করে কাজ করবে। তবে এর পাশাপাশি মানুষের কাছে করা প্রতিশ্রুতি ও দলের সংকল্প পত্রে যে বিষয়গুলি উল্লেখ রয়েছে, তা পূরণ করতে সরকার সবসময় সচেষ্ট থাকবে। বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টার প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান অভিযুক্তকে আড়াল করতেই এই একাউন্টার মকরা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘তৃণমূলের বক্তব্যের কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মানুষ শুধু তাদের অপশাসন দেখেছে।’
সেই সঙ্গে তৃণমূলের তোলা অভিযোগকে নস্যাৎ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে যে কেউ নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তবে মানুষ তৃণমূলকে ভালো করে চেনে। কামদুনির ঘটনা সবাই জানেন। তৃণমূল এখন রাজনৈতিকভাবে নির্মূল। তাই তৃণমূলের এই ধরনের অভিযোগ সমাজ কোনওভাবেই মেনে নেবে না।’ এর পাশাপাশি বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের করা মন্তব্যেরও তিনি কড়া নিন্দা করেন। শমীক বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে তিনি এই সমস্ত বিষয়ে যত কম কথা বলেন, ততোই ভালো। সেটা ওনার নিজের এবং দলের জন্য ভালো হবে।’
রবিবার বারুইপুর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। তারপর ৬ সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফোনে কথা বলেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় তিন অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দারকে। মঙ্গলবার নিজে বারুইপুর যান শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। আশ্বাস দেন সুবিচার মিলবেই। ঠিক তার ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই এনকাউন্টারে শেষ করে দেওয়া হয় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে।




