বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে মিশরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় যতটা রোমাঞ্চ উপহার দিয়েছে, তার চেয়েও যেন বেশি জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। বিশেষ করে ভিএআর-এর (VAR) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক— ফিফা কি সত্যিই নিরপেক্ষ? নাকি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে ধরে রাখার জন্য কোনো অদৃশ্য প্রভাব কাজ করছে?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দু’টি ঘটনা। প্রথমত, মিশরের একটি গোল দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়ত, ম্যাচের শেষ দিকে মহম্মদ সালাহ বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হয়েছেন বলে মিশর দাবি করলেও সেই ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। এরপরই পাল্টা আক্রমণ থেকে আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোল করে। এই দুই সিদ্ধান্তই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচের পর সরাসরি প্রশ্ন তোলেন ফিফার ভূমিকা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকুক। আমরা প্রতিপক্ষের কাছে হারিনি। আমরা এমন কিছু সিদ্ধান্তের কাছে হেরেছি, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।’
সামাজিক মাধ্যমেও এই ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বহু সমর্থক ও বিশ্লেষক দাবি করেছেন, ভিএআর-এর ব্যবহার এক রকম ধারাবাহিক ছিল না। একই ধরনের ঘটনায় কখনও হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, আবার কখনও করা হয়নি। ফলে প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ফুটবল কূটনীতি ও প্রশাসন নিয়ে গবেষণা করা একাধিক বিশ্লেষকও মতও এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মতে, কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই কারচুপির অভিযোগ করা ঠিক নয়। তবে ধারাবাহিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং সেগুলির অধিকাংশই যদি একটি দলের পক্ষেই যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
‘আল জাজিরা’ ১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। সেই বিশ্বকাপেও আয়োজক আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নানা বিতর্ক, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও সেসব অভিযোগের বহু ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি, তবু বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেই বিতর্ক আজও আলোচনার বিষয়।
এ বারও মিশরের বিদায়ের পর প্রশ্ন উঠছে— ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? ভিএআর কি সত্যিই ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করছে, নাকি তার প্রয়োগে রয়েছে অসঙ্গতি? তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এখনও পর্যন্ত ফিফার বিরুদ্ধে ম্যাচে পক্ষপাতিত্ব বা কারচুপির কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু মূলত রেফারিং ও ভিএআর-এর কয়েকটি সিদ্ধান্ত, যা নিয়ে ফুটবলমহলে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে।




