• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 6 July, 2026

বারুইপুরকাণ্ডে এবার যুক্ত গণধর্ষণের ধারা, ধৃতদের হেপাজতে পেল পুলিশ

বারুইপুরের নাবালিকা নির্যাতন এবং খুনের ঘটনায় ধৃত দুই মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে সোমবার বারুইপুর আদালতে হাজির করে পুলিশ

বারুইপুরকাণ্ডে এবার যুক্ত গণধর্ষণের ধারা, ধৃতদের হেপাজতে পেল পুলিশ

Baruipur Gangrape File Photo

বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতিতে এখন তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার এই ঘটনার জেরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ধপধপি এলাকা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে মৃতদেহ রাস্তায় রেখে চলেছিল বিক্ষোভ। ধর্ষণ করা হয়েছে এই অভিযোগ উঠছিল। কিন্তু পরিবারের দাবিই এবার সত্যি প্রমাণিত হলো। কারণ সোমবার আদালতের নির্দেশে এই মামলায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করা হলো। গণধর্ষণ করে নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সোমবার আদালতে তোলা হলে ধৃত দুজনের ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বারুইপুর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভে্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে কথা বলবেন পুলিশ সুপারের সঙ্গে। একইসঙ্গে দেখা হবে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গেও। এই ঘটনার দিন কথা বলে মঙ্গলবার ভবানী ভবনে মৃত নাবালিকার বাবাকে দেখা করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার তিনি নিজেই যাচ্ছেন। তার আগে সোমবার বারুইপুর আদালতে খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারা ৭০ (২) যোগ করা হয়েছে। তাদের ১৪ দিনের হেপাজতে চায় পুলিশ। আদালত সেটা মঞ্জুর করেছে। ২০ জুলাই আবার তাদের আদালতে হাজির করা হবে। নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করা হয় পুকুর থেকে। রবিবারই দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে বারুইপুরের নাবালিকা নির্যাতন এবং খুনের ঘটনায় ধৃত দুই মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে সোমবার বারুইপুর আদালতে হাজির করে পুলিশ। আর তৃতীয়জন তথা মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে। আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করা বাকি আছে। অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও বাকি আছে। তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আর সেটা মঞ্জুরও হয়।

তাছাড়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বারুইপুরের তিনটি থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল থেকে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায়। বিএনএসের এই ধারা অনুযায়ী, তিন থানা এলাকায় পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। টহলদারি চলছে। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবার যেভাবে বিচার চেয়েছেন, সেটা তাঁরা পাবেন। বারুইপুরে নাবালিকা খুন ও ধর্ষণ ‘জঘন্যতম ঘটনা’। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে। ওর বাবা যা যা চেয়েছেন সব করবো। আমি খুশি ওঁরা আস্থা রেখেছেন।’ বারুইপুর কাণ্ডে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ধর্ষণ (৬৫), গণধর্ষণ (৭০ [২]), খুন (১০৩ [১]), তথ্যপ্রমাণ লোপাট (২৩৮), অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (৬১) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারাতেও মামলা হয়েছে।