জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। তাঁর সঙ্গে ওই বৈঠকে যোগ দেবেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। সেখানে রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে আলোচনা হবে। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গাইডলাইন মেনে একাধিক পদক্ষেপ করা হবে রাজ্যে। এই কথা নিজেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে আগামী ৭ জুলাই নয়াদিল্লিতে এই বৈঠক বসবে। ওইদিনই সেখানে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএসএফ কর্তার সঙ্গে নবান্নে কদিন আগেই বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিএসএফকে জমিও হস্তান্তর করেছেন তিনি। যাতে কাঁটাতার বসিয়ে সেখানে অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। তাই অনুপ্রবেশ একটিও মেনে নেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে জাতিগত জনগণনা শুরু হতে চলেছে। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশিত হবে। এই জনগণনায় সেলফ ডিক্লারেশনের ব্যবস্থাও থাকছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে এই জনগণনার তালিকা প্রকাশ্যে এলেই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে। ইতিমধ্যেই এসআইআর করে বেশ কিছুটা কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার জনবিন্যাস পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যরা শীঘ্রই রাজ্য সফর শুরু করবেন বলে সূত্রের খবর। একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও আসবে ওই কমিটি। কদিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে বৈঠক করেন ওই কমিটির সদস্যরা।
তাছাড়া জনবিন্যাসের পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির মূল্যায়ন করবে ওই কমিটি। তা নিয়ে কেন্দ্রকে রিপোর্টও দেবে তাঁরা। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘বিগত ৪৫ দিনে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর এবং ১২টি জায়গায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। এই স্টেশনগুলি থেকে প্রায় ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এখন আরও হাজার-দেড় হাজার মানুষ সেখানে আছে। সীমান্ত এলাকার থানাগুলি বিএসএফের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে জেলে পাঠানোর বদলে সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠাচ্ছে। যেখান থেকে প্রোটোকল মেনে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলি নিয়েও কাজ চলছে।’




