তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবালকে। তবে গ্রেপ্তারের মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জামিন পেলেন। হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছেন তিনি।
কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন শামস ইকবাল। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলেই তিনি পরিচিত ছিলেন। শামস তাঁকে ববি আঙ্কেল বলে সম্বোধন করতে বলে সূত্রের খবর। সমাজমাধ্যমে ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শামসের একাধিক ছবিও রয়েছে।
২০২৪ সালে গার্ডেনরিচে একটি বেআইনি বহুতল ভেঙে পড়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অনুমোদন ছাড়াই বহুতলটি নির্মিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বহুতলটি নির্মিত হয়েছিল শামস ইকবালের ওয়ার্ডেই। সেই ঘটনার পর বেআইনি নির্মাণে তাঁর নামও জড়ায়। বহুতলটির প্রোমোটার ওয়াসিমের সঙ্গে শামসের ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই সময় শামসকে রাজনৈতিকভাবে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম আড়াল করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
গত সপ্তাহের বুধবার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় শামস ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ দায়ের করেন ভারতীয় জনতা মজদুর দলের এক নেতা।
২৪ সালের গার্ডেনরিচের ঘটনার পর সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে শামস ইকবালের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি লেখেন, ‘শামস ইকবাল বেআইনি নির্মাণের বেতাজ বাদশা। চকচকে লাল গাড়ি চালিয়ে একবার পুরসভায় এসেছিলেন। তাঁরি এই জমকালো জীবন গড়ে উঠেছে সেই সমস্, মানুষেরর জীবনের বিনিময়ে, যাঁরা বহুতলের ধ্বংসস্তূপে চাপা প়ড়ে আছেন।‘
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সেই সময় আরও দাবি করেছিলেন, শামস পাঁচ কোটিরও বেশি মূল্যের একটি বেন্টলি গাড়ি কিনেছেন। একজন সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে এত সম্পদের উৎস নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
শামস ইকবালের বিলাসবহুল জীবনযাপন কলকাতা পুরসভার অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলাচোনার বিষয় ছিল। ২০২১ সালের পুরসভা নির্বাচনে গার্ডেনরিচ কেন্দ্র থেকে তিনি প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি দাবি করেছিলেন মানুষের আশীর্বাদন তাঁর জয়ের মূল শক্তি।




