• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 29 June, 2026

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মৃত ১,৩০০-এর বেশি, জামার্নিতে তাপমাত্রা ছুঁল ৪১.৭ ডিগ্রি

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, তাপপ্রবাহে দেশটিতে প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে শুধু জার্মানিতেই নয়, ইউরোপের একাধিক দেশেও তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে।

ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে মৃত ১,৩০০-এর বেশি, জামার্নিতে তাপমাত্রা ছুঁল ৪১.৭ ডিগ্রি

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক ভয়াবহ রিপোর্ট সামনে এনেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপে প্রবল তাপপ্রবাহে গত ২১ জুন থেকে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে হু সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ক্রমশ চরম আকার ধারণ করছে। এরই মধ্যে জার্মানিতে সর্বকালের সবোর্চ্চ ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

হু-এর ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস হিট স্ট্রেস আদতে সাইলেন্ট কিলার। এটা বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, অনেকদিন ধরে যাঁরা রোগে আক্রান্ত সেই সকল ব্যক্তিদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের উষ্ণ মহাদেশে পরিণত হয়েছে। যেখানে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রচণ্ড গরম কেন এত বিপদজ্জনক

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরমে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নষ্ট হয়ে যায়। আর তখনই ডিহাইড্রেশন ও হিটস্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটে। যা মানুষের শরীরে মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এর পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

ইউরোপে রেকর্ড তাপমাত্রা

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, তাপপ্রবাহে দেশটিতে প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে শুধু জার্মানিতেই নয়, ইউরোপের একাধিক দেশেও তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। জার্মানি পূর্ব ব্র্যাডেনবুর্গে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চেক রিপাবলিকে তাপমাত্রা ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও পোল্যান্ডে ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে তাপমাত্রা।

ইউরোপের ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন জানিয়েছে, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির একমাত্র কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। পাঁচ দশক আগেও এই ধরনের তাপমাত্রা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত ছিল। এদিকে সুইস হিমবাহগুলির বরফ দ্রুত হারে গলে যাচ্ছে। জার্মানির বিখ্যাত হাইওয়ে ব্যবস্থা, যা আওটোবান নামে পরিচিত সেখানে রাস্তার কংক্রিট ফেটে গিয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শক্তিশালী হিট ডোম বা উচ্চচাপ বলয়ের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এই তাপপ্রবাহ চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশে জরুরি সতর্কতা জারি হয়েছে। বহু জায়গায় খোলা আকাশের নীচে অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে দিনের বেলা কাউকে ঘরের বাইরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাধারণ মানুষকে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান, হালকা পেশাক পরা, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় থাকতে অনুরোধ করেছে। এছাড়া শিশু ও পোষ্যকে পার্কে বা গাড়ির মধ্যে রেখে না যাওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং ধীরে ধীরে এটি জনস্বাস্থ্য সঙ্কটে পরিণত হচ্ছে।