• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 26 June, 2026

সংস্কার শেষেও বাকিংহামে থাকবেন না রাজা চার্লস, ক্ল্যারেন্স হাউসই হবে স্থায়ী ঠিকানা

২০২২ সালে সিংহাসনে বসার পর এই প্রথম রাজা চার্লস সরকারের কাছে দেওয়া নিজের করের পরিমাণ প্রকাশ করেছেন

সংস্কার শেষেও বাকিংহামে থাকবেন না রাজা চার্লস, ক্ল্যারেন্স হাউসই হবে স্থায়ী ঠিকানা

প্রায় এক দশকের দীর্ঘ সংস্কারের কাজ ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তারপরেও ব্রিটেনের ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্যালেসে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন না রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা। ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউসই তাঁদের স্থায়ী বাসভবন হবে। তবে বাকিংহাম প্যালেস রাজতন্ত্রের প্রশাসনিক এবং আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবেই ব্যবহৃত হবে।

১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে বসার পর থেকে প্রায় ২০০ বছর ধরে বাকিংহাম প্যালেস ব্রিটিশ রাজা বা রানির সরকারিভাবে স্বীকৃত লন্ডনের প্রধান আবাস।  যেখানে তিনি শুধু থাকেন না, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্বও পালন করেন। ৭৭৫ কক্ষের এই প্রাসাদ শুধু রাজপরিবারের আবাস নয়, এখান থেকেই পরিচালিত হয় রাজতন্ত্রের প্রশাসনিক কাজ। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সংবর্ধনা, রাষ্ট্রীয় ভোজ, বাগান পার্টি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক-সহ নানা গুরুত্বপূ্র্ণ অনুষ্ঠানও এখানেই অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালে প্রায় ৩৬৯-৩৭০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজপ্রাসাদের সংস্কার শুরু হয়। পুরনো বৈদ্যুতিক তার, সিসার পাইপ, বয়লার ও অন্যান্য পরিকাঠামো বদলে আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। তার মূল উদ্দেশ্য ভবিষ্যতের জন্য প্রাসাদটিকে আরও নিরাপদ করে তোলা। ২০২৭ সালে সেই কাজ শেষ হওয়ার কথা।

২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন রাজা চার্লস। সংস্কারের কারণে তিনি আগের মতোই ক্ল্যারেন্স হাউসে থাকছেন। রাজপ্রাসাদের কোষাধ্যক্ষ জেমস চালমার্স জানিয়েছেন, রাজা ও রানি সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকতে চান। তাঁদের বয়সের কথা ভেবে এবং সম্পূর্ণ রাজকীয় দপ্তর স্থানান্তরের মতো জটিলতার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁরা বাকিংহামে না থাকলে প্রাসাদটি বছরের আরও বেশি সময় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা সম্ভব হবে। এতে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার যেমন বাড়বে, তেমনই টিকিট বিক্রি থেকেও বাড়তি আয় হবে। তবে এই সিদ্ধান্তে বাকিংহাম প্যালেসের গুরুত্ব কমছে না। চালমার্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজা লন্ডনে থাকলে এখান থেকেই রাষ্ট্রীয় ভোজ, সরকারি অনুষ্ঠান, কূটনৈতিক বৈঠক এবং অন্যান্য রাজকীয় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রাসাদে তাঁদের ব্যক্তিগত বিশ্রামকক্ষও থাকবে।

একই দিনে রাজপ্রাসাদ আরও একটি নজিরবিহীন তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালে সিংহাসনে বসার পর এই প্রথম রাজা চার্লস সরকারের কাছে দেওয়া নিজের করের পরিমাণ প্রকাশ করেছেন। জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তিনি ১ কোটি ২৯ লক্ষ পাউন্ড বা প্রায় ১৬১ কোটি টাকা আয়কর এবং মূলধনী মুনাফা কর দিয়েছেন। তার ফলে তিনি ব্রিটেনের সর্বোচ্চ করদাতাদের প্রথম ১০০ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। আগের অর্থবর্ষে তাঁর করের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৭ লক্ষ পাউন্ড।

ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, রাজাকে আয়কর, মূলধনী মুনাফা কর বা উত্তরাধিকার কর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবু রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পথ অনুসরণ করে চার্লস ১৯৯৩ সাল থেকেই স্বেচ্ছায় এই কর দিয়ে আসছেন। তবে এবারই প্রথম সেই করের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হলো। একইসঙ্গে প্রিন্স উইলিয়ামও নিজের দেওয়া করের তথ্য প্রকাশ করেছেন। রাজপ্রাসাদের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে বাকিংহাম প্যালেসের মর্যাদা অটুট থাকলেও, রাজা চার্লসের আমলে রাজতন্ত্র ধীরে ধীরে আরও আধুনিক ও জনমুখী হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।