‘ডিজে বাজানো’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। বিধাননগর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা জমা দিতে হবে। তবে অভিষেকের আইনজীবীদের দাবি, যে অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে, সেটি অভিষেকের কণ্ঠস্বর বলেই তিনি স্বীকার করছেন। ফলে নতুন করে ভয়েস স্যাম্পল দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে অভিষেকের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় মামলার জরুরি শুনানির আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, হাইকোর্টের তরফে ইতিমধ্যেই অভিষেককে নির্দিষ্ট সুরক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নিম্ন আদালত কীভাবে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিচারপতি জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেছেন। আগামী সোমবার মামলার শুনানির সম্ভবনা।
উল্লেখ্য, ‘ডিজে বাজানো’ মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চেয়ে বিধাননগর আদালতে আবেদন করেছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে ৩০ জুন নমুনা সংগ্রহের দিন ধার্য করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওই দিন বিধাননগর আদালতে উপস্থিত থেকে অভিষেককে কণ্ঠস্বরের নমুনা রেকর্ড করাতে হবে সিআইডিকে। নমুনা সংগ্রহের সময় ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপস্থিত থাকার কথা।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। ভোটপ্রচারে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ৪ঠা মে পর ‘ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব।’ এই মন্তব্যের জেরে পরবর্তীকালে অভিযোগ দায়ের হয়।
সল্টলেকে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি। সেই মামলার তদন্তে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তাঁর কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতেও নোটিস পৌঁছে দেয়। গত কয়েক দিনে একাধিকবার সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
১১ জুন দিল্লি থেকে ফেরার পর ভবানী ভবনে প্রথমবার হাজিরা দেন তিনি। সে দিন প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জেরা করা হয়। পরে ‘ডিজে’ মন্তব্য সংক্রান্ত মামলাতেও তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।