কখনও কখনও বাস্তব ঘটনাও রূপকথার গল্পকে হার মানায়। এই ঘটনা সেরকমই। ২০০৯-এ দুই কিশোর উজবেক ফুটবলারের স্বপ্নপূরণ হয়েছিল, তাদের আদর্শ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে। ১৭ বছর পর সেই দুই কিশোর— রুস্তম আশুরমাতভ এবং দিয়র খামদামভ বিশ্বকাপের আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামলেন সেই সিএর সেভেনের বিরুদ্ধেই।
মঙ্গলবার পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় ২০০৯-এর একটি পুরনো ছবি। সেই ছবিতে দেখা যায়, তরুণ রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন দুই উজবেক কিশোর। তখন হয়তো তারা কল্পনাও করেননি যে একদিন বিশ্বকাপে নিজেদের দেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামবেন সেই কিংবদন্তির বিরুদ্ধেই।
যদিও এই ম্যাচে তাঁদের অভিজ্ঞতার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। রোনাল্ডোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে হারায় পর্তুগাল। একই সঙ্গে তিনি ভেঙে দেন পর্তুগালের বিশ্বকাপ ইতিহাসের গোলের নজির এবং ছ’টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন ইতিহাসও গড়েন রোনাল্ডো।
ম্যাচের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা । অনেকেই প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, এটাই প্রমাণ করে যে, ফুটবলে স্বপ্ন কখনও কখনও অবিশ্বাস্যভাবে সত্যি হয়ে যায়। একজন মন্তব্য করেন, “২০০৯ সালে তারা রোনাল্ডোর সঙ্গে ছবি তুলেছিল, আর ২০২৬ সালে তার বিপক্ষে বিশ্বকাপ খেলল। এটাই ফুটবলের জাদু।”
উজবেকিস্তানের হয়ে খেলতে নামা আশুরমাতভ ও খামদামভ-এর জন্য ফলাফল সুখকর না হলেও মুহূর্তটি নিঃসন্দেহে স্মরণীয়। কারণ, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার সঙ্গে শৈশবের একটি ছবি থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর প্রতিপক্ষ হওয়ার যাত্রা খুব কম ফুটবলারের জীবনেই আসে।
রোনাল্ডো নিজেও বহুবার বলেছেন যে তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করাই তাঁর অন্যতম বড় প্রাপ্তি। আর উজবেকিস্তানের এই দুই ফুটবলারের গল্প যেন সেই কথারই বাস্তব উদাহরণ। একসময় যাঁদের কাছে তিনি ছিলেন পোস্টারের নায়ক, ১৭ বছর পরে তাঁর বিরুদ্ধেই বিশ্বকাপের লড়াইয়ে নামলেন তাঁরা।
ফলাফল পর্তুগালের পক্ষে গেলেও, আশুরমাতভ ও খামদামভ -এর জন্য এই ম্যাচ কিন্তু পরাজয়ের গল্প নয়। এটি আসলে স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং ফুটবলের অনন্য সৌন্দর্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত।




