আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি ফের রেফারিং বিতর্কের কেন্দ্রে। সোমবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে নিজের ১৭তম বিশ্বকাপ গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন মেসি। সেই গোলেই তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোশ্লাভ ক্লোজকে টপকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে পৌঁছে যান। কিন্তু ম্যাচের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—গোলটি আদৌ বৈধ ছিল কি না। গ্রুপ ‘জে’-র ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। মেসি জোড়া গোল করেন। তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু তাঁর প্রথম গোলটি, যা তাঁকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসায়।
ঘটনার সূত্রপাত গোল হওয়ার ঠিক আগে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সি ম্যাকালিস্টার অস্ট্রিয়ার জাভের শ্লাগার-কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এরপর বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন মেসি। কিন্তু রেফারি খেলা থামাননি এবং ভিএআরও হস্তক্ষেপ করেনি। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেনমার্কের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মিখেল। ফক্স স্পোর্টসে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এটা স্পষ্ট ফাউল ছিল। অস্ট্রিয়ারই ফ্রি-কিক পাওয়া উচিত ছিল।” তাঁর মতে, রেফারি এবং ভিএআর দু’পক্ষই ভুল করেছে।
শ্মিখেল আরও বলেন, “এটাই তো ভিএআরের কাজ। এখানে একটি পরিষ্কার এবং স্পষ্ট ভুল হয়েছে। তাই গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল।” শুধু শ্মিখেলই নন, অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ্ রাঙ্গনিক-ও ম্যাচের পরে একই অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “প্রথম গোলের আগে ফাউল হয়েছিল এবং সেটি ধরা উচিত ছিল।” তবে রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে এবং গোলটিও গণ্য করা হয়। পরে সংযুক্ত সময়ে আরও একটি গোল করে মেসি নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৮-তে পৌঁছে দেন। এর ফলে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলদাতাদের তালিকায় তিনি আরও এগিয়ে যান।
বিতর্ক থাকলেও পরিসংখ্যান বলছে, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি ইতিহাস লিখে চলেছেন। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে তিনি শুধু রেকর্ডই ভাঙেননি, আর্জেন্টিনাকে নকআউট পর্বেও তুলে দিয়েছেন। তবে তাঁর রেকর্ড গড়া প্রথম গোলটি নিয়ে বিতর্ক যে এত সহজে থামছে না, এই নিয়ে সন্দেহ নেই।




