• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 20 June, 2026

নাইজারের বিমানবন্দরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু ৩৫ জনের

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকালের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই বিমানবন্দরের আশপাশ থেকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়

নাইজারের রাজধানী নিয়ামের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার শিকার।পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালানো হয়, যাতে অন্ততপক্ষে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং ২ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সকালের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই বিমানবন্দরের আশপাশ থেকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। এর পরেই বন্দুকধারীরা বিমানবন্দরের সামরিক এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে সংঘর্ষ।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়দা ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জামায়াত নুসরত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএম। পাঁচ মাসের মধ্যে এটি এই এলাকায় দ্বিতীয় বড় হামলা বলে জানা গিয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, হামলাকারীদের কাছ থেকে একে-৪৭ রাইফেল, রকেট লঞ্চার, গ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে নাইজারে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সেনা শাসনের মধ্যে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি সুযোগ নিচ্ছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হিংসা ও হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি  নাইজার কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসবাদী ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো ভেঙে দিয়েছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, তারা বিমানবন্দরের সীমানা সংলগ্ন প্রাচীর আরও সুরক্ষিত করেছে এবং ৩৫০টিরও বেশি নজরদারি ক্যামেরা বসিয়েছে।

এই ঘটনার পর আফ্রিকান ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আফঅরিকান ইউনিয়ন কমিশন।