রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ফের উত্তেজনা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার রাতে মস্কো ও তার আশেপাশের এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর মস্কোর আকাশ জুড়ে কালো ধোঁয়া। তারপরেই কালো বৃষ্টি নামে বলে অভিযোগ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে কালো তেলের মতো কণা পড়ে জামাকাপড় ও গাড়িতে দাগ পড়ে যায়। যদিও ‘তেল বৃষ্টি’-র অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো প্রশাসন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর, রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় এক হাজার ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে মস্কোয়। বৃহস্পতিবার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে হামলা চালায় ইউক্রেন। রাশিয়ার রাজধানী লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। রুশ প্রশাসনের দাবি, গত চার বছরে রাজধানীর উপর সবচেয়ে বড় হামলাগুলির মধ্যে এটি একটি। হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি কড়া ভাষায় বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ চাই না এবং কখনোই চাইনি। কিন্তু ইউক্রেন পুড়লে, আপনাদের মস্কোও পুড়বে।’
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় এক হাজার ড্রোন ও একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবুও বহু ড্রোন প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করে মাটিতে নামিয়ে আনা হলেও কিছু ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র। এছাড়াও কিছু জায়গায় হামলা চালানো হয় যেগুলির সামরিক, অর্থনৈতিক বা প্রশাসনিক গুরুত্ব রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের রোস্তভ অঞ্চলে একটি তেল ডিপোতে হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। একটি শপিং মল ও আবাসিক এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। মস্কোয় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর কাপোতনিয়া তেল শোধনাগার। এই শোধনাগার মস্কোর প্রায় ৪০ শতাংশ পেট্রল এবং অর্ধেকেরও বেশি ডিজেলের চাহিদা পূরণ করে। হামলার পর বিশাল আগুন ও ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা কালো বৃষ্টির অভিযোগ করেন। এই হামলায় ইউক্রেন তাদের নতুন ‘সিচেন’ ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে জানা গিয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ড্রোন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। সেই সঙ্গে ৪০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। ১৫০০ মিটার উচ্চতা দিয়ে উড়তে পারে এই ড্রোন। এর সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হল ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার রেসিলিয়েন্স।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম খরচের এই ড্রোন দিয়ে ইউক্রেন এখন রাশিয়ার গভীরে আঘাত হানার কৌশল নিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে এই নতুন সিচেন ড্রোন মোতায়েন করে ইউক্রেন। তার পর এই প্রথম সামরিক অভিযানে ব্যাপকভাবে সিচেন ড্রোনের ব্যবহার করল ইউক্রেন।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের শহর, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষের বসতিতে হামলা চালিয়ে আসছে। জেলেনস্কি বলেছেন, গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার হামলার জবাবে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার হামলায় পেচেরস্ক লাভরা মঠের মতো একটি প্রধান ধর্মীয় স্থান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ জেলেনস্কির। সেই কারণেই যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থাকা রুশ সামরিক ও জ্বালানি পরিকাঠমোকেও এখন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। কিয়েভের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনা রোধ করতেই এই ধরণের অভিযান চালানো হচ্ছে।




