• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 18 June, 2026

রোনাল্ডোকে নিয়ে সারা বিশ্বের মতো দ্বিধাবিভক্ত বাংলাও, কী বলছেন প্রাক্তন তারকারা?

তরুণ-তুর্কিদের দিয়ে খেলালে দলটা আরও ভাল খেলবে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিয়ে সারা ফুটবলবিশ্ব তোলপাড়। বুধবার রাতে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যে রোনাল্ডোকে দেখা গিয়েছে, তাঁকে চেনেন না অনেকেই। সারা দুনিয়া জুড়ে ভক্তরা হতাশ। তাদের মনে একটাই প্রশ্ন, এ কোন রোনাল্ডো? তা হলে কি এ বার থেমে যাওয়ার সময় এসে গিয়েছে পর্তুগিজ তারকার?

এমনই এক ঝাঁক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে বাংলার ফুটবল মহলেও। রোনাল্ডোকে নিয়ে ধন্দে বাংলার প্রাক্তন ফুটবলাররাও। কেউ কেউ আশাবাদী, ঠিক ছন্দে ফিরবেন সিআর সেভেন। অনেকের ধারণা, আগেই থেমে যাওয়া উচিত ছিল তাঁর।
‘দৈনিক স্টেটসম্যান অনলাইন’-কে কী বললেন, চারজন প্রাক্তন তারকা ফুটবলার?

অনিত ঘোষ— রোনাল্ডোকে যদি নিজের ছন্দে ফিরতে হয় এবং পর্তুগালকে যদি ভাল কিছু করতে হয়, তা হলে পর্তুগাল দলের বাকি দশজনের সাহায্য প্রয়োজন রোনাল্ডোর। এর আগে ক্লাবের হয়ে ওকে আমরা অসাধারণ শট বা হেডে গোল করতে দেখেছি। কিন্তু বুধবারের ম্যাচে ওকে তো বলই পেতে দেখলাম না। রোনাল্ডোর আশপাশে যারা ছিল যেমন নেতো, ব্রুনো, ভিতিনহা- ওদের খুব ম্লান লেগেছে আমার। ওদেরই তো রোনাল্ডোকে সঠিক বল সাপ্লাই দেওয়া উচিত ছিল। গোটা দলটাই এই ম্যাচে ভাল খেলতে পারেনি। ফলে অসহায় হয়ে পড়ে রোনাল্ডো।

গতবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছিল। পরে কী হয়েছিল, সবাই জানে। সুতরাং পর্তুগাল প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছে মানে যে তারা হারিয়ে যাবে, এমন কোনও কথা নেই। রোনাল্ডোও যে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, এমনও বলা উচিত নয়। সে অনেক উঁচু মানের খেলোয়াড়। মানসিক দিক থেকে প্রচণ্ড শক্তিশালী। তাই আমার বিশ্বাস ও ঘুরে দাঁড়াবে, দলটাও এর চেয়ে ভাল খেলবে। সে জন্য হয়তো দলের পরিবর্তন করতে হবে কোচ রবার্তো মার্তিনেজকে। রোনাল্ডোকে প্রথম দলে নাও রাখা হতে পারে। ওরা বড় টিম। নিশ্চয়ই ঘুরে দাঁড়াবার পরিকল্পনা চলছে এবং ওদের সেই পরিকল্পনা সফল হবে।

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য— একটা ম্যাচ দেখেই এত গেল গেল রব তোলা উচিত না। পর্তুগাল যথেষ্ট ভাল দল। কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা যে ভাবে রোনাল্ডোকে মার্ক করে রেখেছিল, তাতে ওর পক্ষে ওর স্বাভাবিক ছন্দে খেলা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া ওর সতীর্থরাও ওকে ঠিকমতো সহায়তা দিতে পারেনি। সেই জন্যই রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স ভাল হয়নি এবং সেই কারণেই সবাই ওর নিন্দা করছে। রোনাল্ডো যদি সত্যিই ফুরিয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে তো ওকে পর্তুগাল দলেই নেওয়া হত না। রোনাল্ডো অনেক বড় ফুটবলার। আমার আশা, ও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এর চেয়ে ভাল খেলবে। ওর সম্পর্কে যতটুকু শুনেছি, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো মানুষ ও নয়। এর আগেও ব্যাড প্যাচ গিয়েছে ওর। ছন্দে ফিরে এসেছে। এ বারও পারবে। ওর মতো বড় ফুটবলার সম্পর্কে এত সহজে বিচার করা ঠিক হবে না।

মেহতাব হোসেন— আধুনিক ফুটবল খুব কঠিন। ৪১ বছর বয়সে এই ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া মোটেই সোজা নয়। একজন ফরোয়ার্ডের যে ক্ষিপ্রতা দরকার, সেই ক্ষিপ্রতা ওর মধ্যে দেখা যায়নি। এই ম্যাচে রোনাল্ডোকে দেখে আমার মনে হয়েছে, এ বারের বিশ্বকাপের আগেই ওর অবসর নিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। আমার মনে হয় কোচের ভাবা উচিত ছিল, যখন আক্রমণে সেই ক্ষিপ্রতা দেখা যাচ্ছিল না, তখন ওকে বসিয়ে একজন তরুণ অ্যাটাকারকে নামানো উচিত ছিল। তাছাড়া পর্তুগালের উইঙ্গাররাও কার্যকরী হয়নি। নাম্বার ১১ ও নাম্বার ৭-দের তো খুঁজেই পাওয়া যায়নি। বিশ্বের অন্যতম সেরা মাঝমাঠ এখন পর্তুগালের। কিন্তু গতকাল তাদের একবারও বক্সের মধ্যে ঢুকতে দেখা যায়নি। এই ফুটবল খেললে বড় দলের বিরুদ্ধে সফল হতে পারবে না পর্তুগাল। ওদের খেলা পাল্টাতে হবে। আরও গোলের সুযোগ তৈরি করতে হবে। না হলে এ বার বিশ্বকাপে ওদের ভবিষ্যৎ মোটেই ভাল না।

অলোক মুখোপাধ্যায়— মেসি হয়তো রোনাল্ডোর চেয়ে দু-তিন বছরের ছোট। কিন্তু মেসিকে দেখুন, ডিফেন্সে এসে বল নিয়ে যাচ্ছে এবং আক্রমণে উঠছে। দেখে মনেই হচ্ছে না, এটা ওর শেষ বিশ্বকাপ। রোনাল্ডো বিশ্বকাপে কোনও দিনই মনে ছাপ রাখার মতো খেলেনি। বরং পর্তুগাল যদি ওকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে খেলে, আমার মনে হয় ওরা অনেক ভাল খেলবে। রোনাল্ডোর সেই শুটিং, হেড, স্পার্ক—কিছুই দেখা গেল না। ওর জন্যই দলটা ভাল খেলতে পারছে না। পরের ম্যাচে রোনাল্ডোকে কখনোই শুরু থেকে খেলানো উচিত হবে না। বরং ওদের তরুণ ফুটবলার যারা রয়েছে, যেমন ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, বার্নার্ডো সিলভা, রুবেন ডায়াস, ম্যাথিউস নুনেজ—এদের খেলাক, তা হলে দলটা নিঃসন্দেহে ভাল খেলবে। রোনাল্ডোর কোনও ভূমিকাই নেই। শুধু বড় নাম দিয়ে ফুটবল হয় না। রোনাল্ডো বরাবরই শক্তি দিয়ে ফুটবল খেলেন। সেই শক্তি কমে গেলে এমনই হাল হবে। রোনাল্ডোকে পরে নামাতে পারে। তরুণ-তুর্কিদের দিয়ে খেলালে দলটা আরও ভাল খেলবে।