• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 18 June, 2026

রাম মন্দিরে দানের টাকা নিয়ে বিতর্ক, চাপে ট্রাস্ট ও বিজেপি

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির নেতারা বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লি পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মন্দিরের দুই কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে কয়েক লক্ষ টাকা নগদ ও সোনার গয়না উদ্ধারের খবরও সামনে এসেছে।

যদিও রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবু ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। বিরোধীদের দাবি, শুধু সিট তদন্ত নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন জমা পড়েছে।

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির নেতারা বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিতর্ক আরও বেড়েছে বিজেপির অন্দর থেকেই সমালোচনা শুরু হওয়ায়। রাম মন্দির আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও বিজেপির সাবেক সাংসদ বিনয় কাটিয়ার প্রকাশ্যে ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন।

তদন্তে আরও জানা যাচ্ছে, কয়েকজন কর্মচারীর আয় ও জীবনযাত্রার মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। এদিকে এক প্রাক্তন হিসাবরক্ষক দাবি করেছেন, আগে থেকেই অনিয়মের কথা ট্রাস্টকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাঁকেই অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু অর্থ তছরুপের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। রাম মন্দির, ট্রাস্টের স্বচ্ছতা এবং বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্যতম রাজনৈতিক প্রকল্পকে ঘিরে এই বিতর্ক জাতীয় রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে।