‘বাংলার খেলাধুলো ও কলকাতা ময়দান নিয়ে আমরা গর্ব অনুভব করতাম। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ভাবনা থেকে আমরা ছিটকে গেলাম। তার পিছনে কারণ খুঁজতে গিয়ে প্রথমে চোখে পড়েছে ময়দানের রাজনীতি ও পরিবারতন্ত্র।’ এই কথা বলেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ সবার সঙ্গে পরিচিত হলেন। তিনি বলেন, ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমি বেশকিছু ব্যাপারে চোখ রাখতেই অবাক হয়ে গেছি। কিন্তু আমাদের শপথ, ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। তাই প্রথম দিন থেকেই খেলার মাঠে পরিবারতন্ত্রকে দূর করার চিন্তা নিয়েছি।
পাশাপাশি, ময়দান থাকবে খেলার জন্য। সেখানে কোনও রাজনীতি হবে না। রাজনীতির ময়দান অন্য জায়গায়। তারপরেই তিনি বলেন, আমার কাছে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে দুর্নীতি আর পক্ষপাতিত্বে খেলার চেহারাটাই বদলে গিয়েছে। তাহলে সাফল্য আসবে কোথা থেকে। আবার অভিযোগ এসেছে, কলকাতা ফুটবলে বেটিং চক্র খেলা করছে। এটা কী? শুধু ফুটবলে নয়, ক্রিকেটেও দুর্নীতির থাবা বসেছে। সব বিষয়গুলি নিয়ে বিশেষ সমীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে। দুর্নীতি দূর করতেই হবে। পরিবারতন্ত্র দিয়ে খেলার মাঠে গৌরব আনা সম্ভব নয়। তাই এই দুটো বিষয়কে দূর করতেই হবে। গত সরকারের কোনও চেষ্টাই ছিল না এই সব বিষয়ে তদন্ত করা। যার ফলে বাংলার গৌরবে অন্ধকার নেমে এসেছে।
ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, বাংলার ছেলেমেয়েদের প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু সেইভাবে পরিকাঠামো নেই। যার ফলে অনেক ক্রীড়াবিদ বাংলা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্যত্র। সেটা হতে দেব না। আবার দেখা যাচ্ছে, কলকাতা ফুটবলে বা ক্রিকেটে বাংলার ছেলেরা কোথায়? আগে তো বাংলার ঘরের ছেলেমেয়দের দাপট দেখতে পাওয়া যেত। ’খেল ইন্ডিয়া’র মধ্যে দিয়ে প্রতিভার অন্বেষণ করা হবে। জেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জেলার বিভিন্ন স্টেডিয়াম প্রত্যক্ষ করা হবে। সেখানে খেলাধুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূমের দিকে নজর রাখা হবে। আমাদের সরকার প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে খেলাধুলোর উন্নয়নে। তৈরি হবে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি।




