জাহাঙ্গির খানকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তা দিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। কোমরে রয়েছে দড়ি বাঁধা। আর একদা এই ত্রাস হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছেন সকলের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়েছে এই ছবি। আর এহেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের স্ত্রীর নেতৃত্বে আজ ফলতায় দেখানো হচ্ছিল প্রতিবাদ মিছিল। স্থানীয় থানার দিকে এই প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তাঁরা। তারা ভেবেছিলেন হয়তো চুপ করে থাকবে পুলিশ। কিন্তু সেই সময়েই ঘটে যায় উলটপুরাণ । থানায় উপস্থিত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তাড়া খেয়ে রীতিমত পালাতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি পুলিশের লাঠির ভয়ে অনেকে পুকুরেও ঝাঁপ দেন। অনেকে সাঁতরে পালিয়ে যায়।
পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি যেরকম জটিল হচ্ছিল, সেখানে বিক্ষোভকারীদের পাল্টা তাড়া না করলে পরিস্থিতি উল্টো পারত। এমনকি থানাতে হামলা চালানো হতে পারতো। সেই কারণেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর সেই কারণেই পালিয়ে গিয়েছে ওই আন্দোলনকারীরা।
এই নিয়ে বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন মিডিয়া ইন চার্জ তুষারকান্তি ঘোষ বলেন, ‘আজ ফলতায় জাহাঙ্গীর খানকে জেল থেকে বের করতে তাঁর স্ত্রী কিছু বিশেষ গুণ্ডাদের নিয়ে থানায় আক্রমণ চালায়। পাল্টা তেড়ে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আর পুলিশ। সবাই দৌড়ে পালায়, কিছু ভয়ে পুকুরে লাফ দেয়।’ আরও বলেন, ‘এটাই আপনার একটা ভোটের ক্ষমতা।’
যদিও সপ্তাহখানেক আগেই পুষ্পাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। জানা গিয়েছে নেপাল হয়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তখনই তিনি ধরা পড়ে যান। নেপালে নাকি সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর পরিকল্পনাও করে ফেলেছিলেন তিনি। তারপরেই তিনি গোয়েন্দা কর্তাদের হাতে ধরা পড়েন। আর তারপরে তাকে নিয়ে আসা হয়। প্রসঙ্গত ফলতা ভোটের সময়েই এই পুষ্পার দাপট সামনে এসেছিল। পরিস্থিতি এমনই হয়েছিল যে ওই জায়গায় বাধ্য হয়ে পুননির্বাচন করাতে হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। সেই সময়েই জানা গিয়েছিল যে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।




