• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

শরণার্থী বিরোধী আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ ব্রিটেন, রাস্তায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

হামলার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বহু মানুষ

অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলেও তা ধীরে ধীরে বর্ণবিদ্বেষী রূপ নিচ্ছে ব্রিটেনে। বিশেষত উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে চলেছে। এই ঘটনায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতা, মানবাধিকার কর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। বেলফাস্টে এক ৩০ বছর বয়সের সুদানি আশ্রয়প্রার্থী এক ব্যক্তির উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। হামলায় গুরুতর জখম হন চল্লিশোর্ধ্ব আইরিশ নাগরিক স্টিফেন ওগিলভি। তাঁর চোখ, মুখ, ঘাড় ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে এবং একটি চোখের দৃষ্টি হারান বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র বহন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

হামলার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বহু মানুষ। বেলফাস্ট এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে যানবাহন, বাড়িঘর, বাসে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন পুলিশকর্মী আহত হন। ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিক্ষোভের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সংখ্যালঘু ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে। অনেক পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। হামলার শিকার ব্যক্তির পরিবারও হিংসার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। কোনও নিরীহ মানুষের উপর হামলা বা অশান্তি তাঁদের কাছেও কাম্য নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনার জেরে শুরু হওয়া ক্ষোভ এখন বৃহত্তর অভিবাসন বিতর্কে রূপ নিয়েছে। তবে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, এই আন্দোলন যাতে আরও বেশি বর্ণবিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজনের দিকে না গড়ায়। সেই কারণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে শান্তির বার্তা দেওয়া হচ্ছে ।