• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

যুদ্ধের হুঁশিয়ারি থেকে শান্তিচুক্তির দাবি, ইরান সঙ্কটে ট্রাম্পের উলটপুরাণে ধোঁয়াশা

তাঁর বক্তব্যের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আশঙ্কার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ফের জটিল হয়ে উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারংবার অবস্থান বদলানোর কারণে। কখনো তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সামরিক হামলার ঘোষণা করছেন, আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শান্তিচুক্তির কথা বলছেন। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘বড় আকারের হামলা’ হতে চলেছে এবং ইরানের সামরিক ক্ষমতার বড় অংশ ইতিমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে। এমনকি তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলভান্ডার ও বিভিন্ন কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা রয়েছে আমেরিকার।

তাঁর বক্তব্যের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আশঙ্কার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো অবস্থান বদলে ফেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আপাতত হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হয়েছে এবং শীঘ্রই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, সম্ভবত ইউরোপে।ট্রাম্পের মতে, এই সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালী-সহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়া হবে এবং পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান-সহ একাধিক দেশ—ইজরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও পাকিস্তান—এই আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে।এদিকে ইরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়েও অতিরঞ্জিত দাবি করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, কিছু বিষয় নিয়ে অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ শর্তে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইরান তার আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরেনি। আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন প্রতিবেদনেও বলা হচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদনের কথা ট্রাম্প দাবি করলেও বাস্তবে তেহরান এখনো কোনো চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেনি। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ স্পষ্ট। এই পুরো ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা। পাকিস্তান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলি দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালালেও অতীতের মতো এবারও আলোচনায় স্থায়ী অগ্রগতি হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।

এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় সংঘাত আরও বেড়েছে। একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।সব মিলিয়ে একদিকে যুদ্ধের হুমকি, অন্যদিকে শান্তিচুক্তির ঘোষণা—এই দুই বিপরীত সুরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এখন বিভ্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান কেবল কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে, যার লক্ষ্য ইরানকে আলোচনায় আরও নমনীয় করা। তবে বাস্তবে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা কতদূর এগিয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমার বদলে আরও অনিশ্চয়তার দিকে গড়াচ্ছে পরিস্থিতি।